মেনু নির্বাচন করুন
কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) কৃষি তথ্য সার্ভিস গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রাণালয়ের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান । ১৯৬১ সালে কৃষি তথ্য সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর ১৯৮০ সালে কৃষি তথ্য সংস্থাকে কৃষি তথ্য সার্ভিস নামকরন করা হয় । সংস্থাটি জন্মলগ্ন থেকে নিরলসভাবে গণমাধ্যমের সাহায্যে কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি তৃণমূল পযন্ত দ্রুত বিস্তার কাযক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। কৃষি তথ্য সাভিসের সদর দপ্তর খামারবাড়ি, ফামগেট, ঢাকায় অবস্থিত।   লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আধুনিক লাগসই কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি সহজ সরল এবং সাবলীলভাবে অভীষ্ট দলের কাছে বোধগম্য আকারে পৌছানোর ব্যবস্থা করা। প্রিন্টিং মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও আইসিটির সাহায্যে এসব তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্ন আঙ্গিক এবং কৌশলে উপস্থাপন করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা এবং কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

সাধারণ তথ্য

জৈব পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন সময়ের দাবি।

কালের পরিক্রমায় বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া। আমাদের পূর্বপুরুষেরা জৈব কৃষির ওপর নির্ভর করেই চালিয়েছেন চাষাবদ। আস্তে আস্তে জৈব কৃষির স্থান দখল করে রাসায়নিক কৃষি। জৈব কৃষি হলো কৃষি উৎপাদনে জৈব উপকরণের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অরাসায়নিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা। আদি কৃষির যখন গোড়া পত্তন হয়েছিল তখন জৈব কৃষিই ছিল বাস্তবতা। অধিক উৎপাদন নিশ্চিত হলেও আমরা হারিয়েছি আমাদের শতসহস্র বছরের প্রকৃতি নির্ভর ঐতিহ্য। প্রকৃতি নির্ভর কৃষি উৎপাদন হারানোর ফলে আমাদের অজান্তেই উপহার পেলাম মাটি দূষণ, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, ফসল দূষণ। মোটকথা আজ আমরা দূষণের মধ্যে ডুবে আছি। দূষণের দরুন জনজীবন বিপন্ন ও বিপর্যস্ত। রোগে শোকে আমরা দিশেহারা। সবুজ ও নির্মল ধরণী এখন হুমকির সম্মুখীন। যত্রতত্র অহেতুক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে এখন সুস্থ সবল জীবন যাপন করা কঠিন। অস্তিত্ব রক্ষায় দেরীতে হলেও আমাদের বোধদয় হওয়া উচিত। সারা বিশ্ব এখন জৈব কৃষির সন্ধানে। একমাত্র জৈব কৃষিই আমাদেরকে বর্তমান দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। অর্থাৎ মোদ্দাকথা জৈব কৃষি- আমাদের পরম বন্ধু। সময় এসেছে আমাদের বাঁচার তাগিদে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার স্বার্থে জৈব কৃষিকে স্বাগত জানানোর। আধুনিক বিশ্ব কৃষি উৎপাদনে জৈব কৃষি বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করেছে। আমাদেরও জৈব কৃষি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জৈব কৃষি বাস্তবায়নে কিছু বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার।
ক্স    জৈব সারের ব্যবহার : যতটা সম্ভব জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আপনার আমার প্রত্যেকের বাড়ির ফেলনা আবর্জনা, বর্জ্য, লতাপাতা দিয়ে জৈব সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করতে পারি। গোবর, খামারজাত সার, খৈল, ছাই, সবুজ সার ও জীবাণুসার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বাড়ানে সম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে এসব জৈব সার ব্যবহারে মাটির উপকার ছাড়া কোন ক্ষতি হয় না। জৈব সার পরিবেশের বন্ধু। বসতবাড়িতে সীমিত সবজি, ফুল, ফল ও মসলা চাষে সার লাগে কম। এ সব ফসল চাষে জৈব সারই যথেষ্ট হতে পারে; রাসায়নিক সারের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। মূলত: জৈব সার অধিক সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও উচ্চ গুণাগুণ সম্পন্ন সবজি ও ফল উপহার দিতে পারে। বিশুদ্ধ কৃষি পণ্য উৎপাদনে বর্তমান কৃষিতে জৈব কৃষি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্স    সবুজ সারের চাষ : সবুজ সার হিসেবে দেশী ধৈঞ্চার চাষ করে গাছে ফুল আসার সময় মাটিতে মিশিয়ে দিলে মাটিতে নাইট্রেজেন যোগ হয়। আফ্রিকান ধৈঞ্চার চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে আরও বেশি নাইট্রেজেন যোগ হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ইউরিয়া সারের কাজ পাওয়া যায়। একইভাবে শন, বরবটি ও ফেলনের মত কোমল ও রসালো শস্যের চাষ করে ফুল আসার সময় মাটির সাথে মিশিয়ে সবুজ সার তৈরি করা যায়।
ক্স     উর্বরতা বৃদ্ধিকারী ফসলের চাষ : শিম, ডাল বা শুঁটি জাতীয় শস্যের শিকড়ে নাইট্রেজেন গুটি থাকে যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এসব ফসল বেশি চাষ করলে এবং ফসল বাত্তি হবার পর না তুলে শুঁটি কেটে নিয়ে গাছ মাটিতে মিশিয়ে দিলে নাইট্রেজেন ও জৈব পদার্থ যোগ হয়।
ক্স    ফসলের অবশিষ্টাংশ পচিয়ে সার তৈরি : ধান, গম, চীনা, কাউন ও অন্যান্য ফসল কাটার সময় মাটি বরাবর না কেটে অন্তত ৬ ইঞ্চি গোড়া রাখার পর কাটা উচিত। পরে চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে জমিতে থাকা গোড়াগুলো পচে জৈব সারে পরিণত হয় এবং মাটির উর্বরতা বাড়ে।
ক্স    অরাসায়নিক পদ্ধতিতে বালাই দমন : পরিবেশ দূষণের জন্য বালাইনাশকের যত্রতত্র ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি দায়ী। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় অরাসায়নিক উপায়ে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনকে প্রাধ্যান্য দেয়া হয়। যেমন- ক) আধুনিক চাষাবাদ : সুস্থ বীজ ব্যবহার, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, সঠিক দূরত্বে রোপণ, সমকালীন চাষাবাদ, সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার ও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বালাই দমন করা যায়। খ) যান্ত্রিক দমন : জমিতে ডালপালা পোঁতা, আলোর ফাঁদ ব্যবহার, হাতজাল দিয়ে পোকা ধরে মারা, পোকার ডিম, গাদা ও আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে ধ্বংস করে বালাই দমন করা যায়। গ) বালাই সহনশীল জাত ব্যবহার : বালাইসহনশীল বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ করে বালাই আক্রমণ এড়ানো যায়। ঘ) জৈবিক উপায়ে দমন : উপকারী বা বন্ধু পোকা, ব্যাঙ ও অন্যান্য প্রাণী সংরক্ষণ করে এদের মাধ্যমে ক্ষতিকারক পোকার ডিম, পুত্তলী, কীড়া ধ্বংস করার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্স    উদ্ভিজ্জ বালাইনাশক ব্যবহার : নিমের নির্যাস থেকে তৈরি ‘নিমবিসিডিন’ একটি উৎকৃষ্ট মানের উদ্ভিজ্জ কীটনাশক। অরাসায়নিক পদ্ধতিতে বালাই দমন করা সম্ভব না হলে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার বিরত রেখে উদ্ভিজ্জ বালাইনাশক ব্যবহার করে বেগুনের ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা, শাকসবজির বিভিন্ন পোকা এবং ধানের মাজরা, বাদামী গাছ ফড়িং ও পাতা মোড়ানো পোকা দমন করা যায়।
ক্স    ছাই দিয়ে পোকা দমন : বুকে ভর দিয়ে চলে এমন পোকা বিশেষ করে ঘাস ফড়িং দমনে কুয়াশা ভেজা পাতার ওপর ছাই ছিটিয়ে দমন করা যায়। জাব পোকা দমনেও ছাই ভালো কাজ করে। এছাড়া মুলা, পেঁয়াজ, বাঁধাকপি ও সরিষার মূলে যে সব শূককীট থাকে ওইসব পোকা দমনে ছাই কার্যকর। গাছের শিকড়ের গোড়ায় ছাই প্রয়োগ করে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিলেই চলে। সমপরিমাণ ছাই ও সমপরিমাণ চুনের গুঁড়ো এবং সাবান পানি একত্রে মিশিয়ে কুমড়ার গোবরে পোকা দমন করা যায়।
ক্স    অরাসায়নিক পদ্ধতিতে আগাছা দমন : খুব সহজেই আমরা আমাদের দেশীয় যন্ত্রপাতি যেমন- নিড়ানি, খুরপি, কোদাল, উইডার দিয়ে অরাসায়নিক পদ্ধতিতে আগাছা দমন করতে পারি। তাই আগাছানাশকের মত রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ করার কোন প্রয়োজন হয় না। উন্নত বিশ্বই প্রথম রাসায়নিক উপায়ে আগাছা দমন শুরু করে। আমাদের দেশের কৃষিতেও এর কিছুটা ছোঁয়া লেগেছে।
ক্স    জৈব পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ : কৃষির প্রধান ও মৌলিক অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ‘বীজ’। বীজ ১২ শতাংশ আর্দ্রতায় এলেই (দাঁতে চাপ দিলে কট্ করে আওয়াজ হলে) ঠান্ডা করে সংরক্ষণ পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। বীজকে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বোতল, মাটির পাত্র, বৈয়াম, টিন ও ড্রাম ব্যবহার করা যায়। তবে মাটির পাত্র হলে অবশ্যই আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে। সবসময়ই সংরক্ষণ পাত্রটিকে ভালভাবে বাযুরোধী করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। পাত্রটির তলায় অবশ্যই কাঠ, খড় বা অন্যকিছু দিয়ে মাটি বা ফ্লোর থেকে আলাদা করে রাখতে হবে। বীজ সংরক্ষণে ও আলু গুদামজাতকরণে শুকনো নিম পাতা একটি কার্যকর কীটনাশক। নিসিন্দা ও বিষ কাটালির পাতা ডালের পোকা দমনে উপকারী। এপদ্ধতি অনুসরণ করা হলে বীজ নিরাপদ থাকবে।
যেহেতু জৈব কৃষি আমাদের পরম বন্ধু, জৈব কৃষি হলো কৃষি উৎপাদনের আদি পদ্ধতি এবং র্নিভেজাল তাই জৈব পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদনের দিকে আমাদের সবাইকে মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে।

সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আঞ্চলিক কর্মশালা

গত ১৯ জুন, ২০১৬ খ্রি. রোজ রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনাতয়নে সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ কৃষিবিদ কৃষ্ণ চন্দ্র হোড়, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট । পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট অঞ্চলের কৃষি বিষয়ক কার্যক্রমের তথ্যাদি উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ জনাব ড. মামুন-উর-রশিদ,  উপপরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন উপজেলা, এটিআই ও এসসিএ তে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৪তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ক তথ্যাদি উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ের সম্মানিত কর্মকর্তা যথাক্রমে কৃষিবিদ জনাব মো. সালাহ উদ্দিন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, সিলেট; কৃষিবিদ জনাব কাজী লুৎফুল বারী, অতিরিক্ত উপপরিচালক, মৌলভীবাজার; জনাব কৃষিবিদ মো. বশির আহমেদ সরকার, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকতা, হবিগঞ্জ এবং জনাব কৃষিবিদ স্বপন কুমার সাহা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকতা, সুনামগঞ্জ । কর্মশালায় উপস্থাপিত হয় সিলেট অঞ্চলে পতিত জমি থাকার পিছনে নানা কারণসমূহ।স্থানীয় কৃষি বিভাগ এই কারণ ও সমস্যাদি নির্ণয় ও সনাক্ত করেছে । উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো সেচের পানির অভাব, পাথর ও গ্যাসের কারণে সেচ যন্ত্র স্থাপনে সমস্যা, পানির স্তর গভীরে থাকা, বড় কৃষকদের চাষাবাদে অনীহা, জমির মালিক বিদেশে থাকা, জমি বর্গা দিতে অনীহা ও শ্রমিক সংকট। উপস্থাপক মহোদয়গণ এ সব সমস্যাদি সমাধানের বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপিত করেছেন। বিশেষ করে কৃষি ঋণ, সেচের সুবিধা, ফসল মাড়াইয়ের মেশিন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। সিলেট এলাকার উপযোগী কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক সমৃদ্ধ উপস্থাপনা দেন জনাব কৃষিবিদ ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, উর্ধ¦তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ও এফ আর ডি, বারি, সিলেট। পরবর্তীতে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার বিভিন্ন যুক্তি, তথ্য ও মতামত উপস্থাপনের জন্য মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিসার, এসএপিপিও প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় জনাব কৃষ্ণ চন্দ্র হোড় বলেন সিলেট অঞ্চলে পতিত জমি চাষের আওতায় আনা ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। তিনি সকলকে ব্লকভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পনামাফিক উদ্যোগে কাজ করার আহবান করেন।
কৃষিবিদ জনাব মো. শাহজাহান উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার মহোদয়ের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, এটিআই, বারি, ব্রি, এসআরডিআই, এসসিএ, উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র, হর্টিকালচার সেন্টার এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনাব আবাহন মজুমদার, উপজেলা কৃষি অফিসার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
 
 
সবজি চাষী নূরুল আহমদ এর গল্প
কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ
ছোটবেলায় বাবার কাছেই কৃষি কাজে হাতেখড়ি। অন্যান্য অনেক সিলেটবাসীর মতো জীবিকার তাগিদে একদিন পাড়ি জমান ভিনদেশের মাটিতে। কিন্তু কোন কাজেই যেন মন বসে না। ভিনদেশে কৃষি কাজের অগ্রগতি ও নানাবিধ কৃষি প্রযুক্তি দেখে একদিন তার মনে হলো এই আধুনিক প্রযুক্তিগুলো দেশের মাটিতে নিজেও প্রয়োগ করতে পারেন। অত:পর দেশে ফিরে আসেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিগুলোতে সবজি আবাদ করা শুরু করেন। আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক উপায়ে সবজি আবাদ করতে গিয়ে তিনি শরনাপন্ন হন উপজেলা কৃষি অফিসের। পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এদের কল্যাণে প্রশিক্ষিত হয়ে আজ একজন সফল সবজি চাষী। নিজেই সবজি চাষের প্রতি আবদ্ধ না থেকে উৎসাহিত করেছেন অন্যান্য কৃষকদের। বর্তমানে তিনি তার অনুসারী প্রায় ৬২০ জন সবজি চাষী কৃষকদের নিয়ে একটি সংগঠন সৃষ্টি করেছেন। সবজি উৎপাদনে বৈচিত্র্য এনেছেন। এলাকাকে সবজি চাষে সমৃদ্ধ করেছেন। সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের কৃষক মো. নূরুল আহমদ। সম্প্রতি কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট এর সাথে এক নিবিড় সাক্ষাতকারে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপচারিতায় তার গল্পের কথা গুলো বলেন।
জনাব মো. নূরুল আহমদ, নোয়াগাও, শিবেরবাজার, হাটখোলা, সিলেট সদর, সিলেট এর একজন সফল সবজি চাষী। তিনি মূলত আগাম শীতকালীন টমেটো, বছরব্যাপী বরবটি, শসা, বেগুন এসব উচ্চ মূল্যের সবজি ফসল আবাদ করেন। গত ১৯৯২-৯৩ সাল থেকে সবজি চাষ করে আসছেন। শুরুতে প্রায় ১৫ একর জমি থাকলেও ভাইদের সাথে জমি ভাগাভাগির পর বর্তমানে ০৫ একর জমিতে সবজি আবাদ করেন। বিদেশের মাটিতে কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন আধুনিক কার্যক্রমের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে এসে সেসব প্রযুক্তি ব্যবহারে আতœনিয়োগ করেন। আধুনিক প্রযুক্তিগুলো রপ্ত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউট এবং বিভিন্ন বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মনোনিবেশ করেন সবজি উৎপাদনে। গত ২০১৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিট আয় করেন।
মো. নূরুল আহমদ সবজি চাষে লাভবান হওয়ার মূল রহস্য-
ক্স    তিনি প্রচুর পরিমাণে কম্পোস্ট বা গোবর সার ব্যবহার করেন। নিজের গোয়াল ঘর থেকে সংগ্রহের পাশাপাশি বাহির হতে গোবর কিনে কম্পোস্ট সার তৈরি করেন। অসময়ে গোবর কিনে রাখেন এতে দাম কম লাগে এবং প্রাপ্তিতে সমস্যা হয় না। তাছাড়া সময় বুঝে কুইক কম্পোস্ট নিজ হাতে তৈরি করে সবজি ক্ষেতে ব্যবহার করেন।
ক্স    তিনি সবজি ক্ষেতে বিশেষ পদ্ধতিতে স্থায়ী মাঁচা তৈরি করা। জিআই তার ও লাইলনের সুতা দিয়ে বাঁশের খুটি ভালোভাবে শক্ত করে স্থায়ী মাঁচা তৈরি করেন। যা তিন বা চার  বছর পর্যন্ত কাজে লাগান। এই মাঁচা সবজি উৎপাদনের খরচ বিশেষ ভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে তিনি সহজেই লাভবান হন।
ক্স    সময় উপযোগী সবজি আবাদ করা। সবজি ফসলের চাহিদা ও বাজার দরকে মাথায় রেখে তিনি সবজি নির্বাচন করেন। যেমন ২০১৬ সাল (এবছর) রমজান মাসকে সামনে রেখে রমজান মাসের প্রায় ৫০ দিন আগে শসার বীজ রোপণ করেন। এমন জাতের শসার বীজ রোপণ করেন যা ৪৫ থেকে ৫০ দিনে ফলন দেয়া শুরু করে। সেই মোতাবেক রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই তিনি শসা বিক্রি করা শুরু করেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট এর সাথে সাক্ষাতকারের দিনই তিনি প্রায় ২০০০ কেজি শসা বিক্রি করেছেন।  প্রতি কেজি শসা প্রায় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।
ক্স    সবজি সংগ্রহের পর সংগ্রত্তোর পরবর্তী পরিচর্যাগুলো সঠিকভাবে মেনে চলেন। সবজি সংগ্রহ করার সময় কাচি ও ক্রেট ব্যবহার করেন। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিনি সবজি আড়তে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিজেই করেন। ফলে মধ্যসত্ত্বভোগীরা কোন সুযোগ নিতে পারেন না। এতে তিনি বাজারের পুরো দামই পান এবং সহজেই লাভবান হন।
ক্স    সবজি উৎপাদনে বালাইনাশক ব্যবহারের তিনি যথেষ্ট কৃপণ। অযাচিত উপায়ে বালাইনাশক ব্যবহার করেন না। সঠিক সময়ে নিয়ম মোতাবেক সুনির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক বালাইনাশক ব্যবহার করেন। বালাইনাশক ব্যবহারে তিনি যথেষ্ট বিবেচক।
ক্স    তিনি গতানুগতিক সবজি চাষাবাদ করেন না। অর্থ্যাৎ সমসাময়িক ফসলের উৎপাদনের সময় তিনি অন্যদের সাথে গা ভাসিয়ে দেন না। সব সময় কিছু না কিছু ব্যতিক্রম কাজ করেন। যেমন এপ্রিল মাসের আগাম বন্যার হাত থেকে শসার চাষাবাদ নিশ্চিত করতে মূল জমির পাশাপাশি উঁচু নিরাপদ জায়গায় কিছু চারা আলাদাভাবে উৎপাদন করেন। ফলে এপ্রিল মাসের আগাম বন্যায় মূল জমিতে থাকা শসার চারা মারা গেলেও পরবর্তীতে পানি নামার সাথে সাথে মজুদ থাকা শসার চারা লাগিয়ে দিয়ে শসা উৎপাদন করা শুরু করেন। এতে করে সময় মতই শসা উৎপাদন করতে পেরেছেন। অসময়ে শসার উৎপাদনে বাজারে দামই প্রচুর পেয়েছেন।
ক্স    সবজির বীজ নির্বাচনের ব্যাপারে অধিক সাবধান থাকেন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত জায়গা থেকে সবজির বীজ সংগ্রহ করেন। সবজি উৎপাদনে অবশ্যই বীজ শোধন করেন। বীজতলার মাটি শোধন করেন। সবজির চারার বিশেষ যতœ নেন। বীজ উৎপাদন যথা দেশীয় শিম যেমন গোয়ালাগাদ্দা শিমের বীজ উৎপাদন করেন। সিলেটের বাজারে উনার উৎপাদিত বীজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
ক্স    নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করে সবজি ক্ষেতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। তাছাড়া ডলোচুন ব্যবহার করেন। কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন।
নিজে সবজি চাষের পাশাপাশি এলাকার অনেক কৃষকদের সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করেন। উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রায় ৬২০ জন কৃষককে সবজি চাষের প্রতি উৎসাহিত করেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, কৃষকের পায়ের ধুলা জমির জন্য সার। তাই তিনি জমি ও জমির ফসলের নিয়মিত পরিচর্যা নেন। বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙ্গা কঠিন পরিশ্রম করে টাকা আয় করার চেয়ে স্বদেশের মাটিতে পরিকল্পিত উপায়ে সবজি উৎপাদনে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই মো. নূরুল আহমদ।
লেখক: আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।
 
 
আষাঢ় মাসের কৃষি

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ


ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদাহ অনলের পরেই আসে চিরযৌবনা ঋতুর রাণী বর্ষাকাল। বর্ষার আগমনে নীলাকাশ ছেয়ে যায় কালো মেঘে। জলদ গম্ভীর মেঘ গর্জনের সাথে থেকে থেকে বিদ্যুতের চমক। অবিশ্রান্ত বৃষ্টিধারা ¯িœগ্ধতায় ভরে দেয় দিক-দিগন্ত। গ্রীষ্মদগ্ধ ধরণীর বুকে ভরে ওঠে সবুজ সমারোহ। মাঠ ঘাট, খাল বিল, নদী নালা, হাওর, বাওর পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে থৈ থৈ পানিতে। কদম আর তৃণঘাসে ফুটে ওঠে আনন্দের অশ্রুবিন্দু। সবার মতো কৃষকের মনেও দোলা দেয় এমন দিনে কী কী করা যায় এমন ঘন ঘোর বরষায়।

প্রিয় কৃষিজীবীরা, বর্ষার তন্ময়তা খানিকটা সরিয়ে চলুন জেনে নেই এই বর্ষাকালের প্রথম মাস আষাঢ় মাসে কৃষি ভূবনে কী কাজ করতে হবে। অত্যন্ত জরুরী কাজের মধ্যে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো-রোপা আমনের বীজতলা তৈরি। বৃষ্টি বা বন্যার পানিতে ডুববে না এমন উঁচু রৌদ্রময় জমি নির্বাচন করতে হবে বীজতলা তৈরির জন্য। বীজতলা তৈরির আগে জমির চারদিকের আইল ভালভাবে বেঁধে দিয়ে জমিতে পানি আটকিয়ে রাখতে হবে। এতে জমির মাটি নরম হবে, আবর্জনা ঘাস পঁেচ জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশে মাটির উর্বরতা বাড়াবে। দু’চারদিন পর ৪/৫টা আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে জমিকে থকথকে কাদাময় করে নিতে হবে। প্রয়োজনীয় জৈব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে ১ মিটার, প্রায় ৩ ফুট চওড়া এবং প্রয়োজনীয় লম্বায় প্লট আকারে ভাগ করতে হবে। দুই প্লট এবং বীজতলার চার দিকে ২৫ সে.মি অর্থাৎ ১০ ইঞ্চি চওড়া নালা রাখতে হবে। এই নালা দিয়ে প্রয়োজনীয় সেচ নিকাশ বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা যাবে। কমপক্ষে ৮০% গজায় এমন সুস্থ, বালাইমুক্ত অঙ্কুরিত আমন বীজ প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ৮০-১০০ গ্রাম হারে বীজ সুন্দরভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। ভাল চারা পাওয়ার জন্য প্রতি বর্গমিটার জমিতে ২ কেজি গোবর, ১০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫ গ্রাম পটাশ, ৫ গ্রাম টিএসপি এবং ৫ গ্রাম জিপসাম সার বীজ বপনের আগেই মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বীজ বপনের আগে যদি বীজতলায় এক স্তর ছাই ছিটিয়ে দেয়া হয় তবে চারা তোলার সময় বেশ সুবিধা হবে। বীজ বপনের পর প্রথমে বীজতলা শুকানো, পরে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া, দীর্ঘ সময় পানি জমতে না দেয়া, আগাছা পরিস্কার, বালাই দমন, চারার বাড়বাড়তি কম হলে বা পাতার রঙ হলুদ হয়ে গেলে প্রতি লিটার পানির সাথে ১০ গ্রাম ইউরয়িা মিশিয়ে এক বর্গমিটার বীজতলায় ছিটিয়ে দেয়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ নিয়মিত করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। ভাল ফলনের জন্য উচ্চ ফলন শীল বা হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করতে পারেন। বীজ জাগ দেওয়ার আগে বীজ অবশ্যই বীজ শোধন করে নিবেন।

এক্ষেত্রে প্রথমেই জাত নির্বাচন করতে হবে। জাত নির্বাচনে মৌসুম, জমির অবস্থান, জমির উর্বরতা ও চাহিদা/বাজার দর বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হয়। আগাম জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪৯ আবাদ করতে পারেন। এই জাতগুলোর বীজ আষাঢ় মাসে বপন করা উচিত। স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত হিসেবে বিনা ধান ৭ এবং ব্রি ধান৬২ (জিংক সমৃদ্ধ) চাষ করতে পারেন। অধিক ফলনশীল মাঝারি থেকে মোটা চালের জন্য বিআর১০, বিআর১১, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১ চাষ করা যায়। সুগন্ধি চালের জন্য ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮ চাষ করা যায়। আগাম বন্যা সিলেট অঞ্চলে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। যা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তাই বন্যার পানি বা জলমগ্নতা সহনশীল জাত ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ চাষ করা যায়। এই জাতগুলো আকস্মিক বন্যায় প্রায় ১০-১৫ দিন জলমগ্ন থাকার পরও ফলন ভালো হয়। নাবি জাত হিসেবে বিআর ২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৪৬ অথবা স্থানীয় জাত যেমন শাইল জাতীয় ধানের জাত চাষ করা যায়। সিলেট অঞ্চলের আকস্মিক বন্যাপ্লাবিত এলাকার জন্য ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২; খরা প্রবন এলাকার জন্য ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭; স্বল্পমেয়াদি ব্রি ধান৬২, বিনা ধান-৭ এবং সাধারণ সকল জমির জন্য ব্রি ধান৪৯ এবং বিআর১১ খুবই উপযোগী। বীজতলা তৈরির পাশাপাশি মূল জমি নির্বাচন ও তৈরি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

আষাঢ় মাস মানেই বন্যার সম্ভাবনা। আগাম বন্যায় ডুবিয়ে দেয় পাকা আউশ ধান। সেজন্য আগাম আউশ ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সোনালী আঁশ পাটগাছে ফুল ধরলেই বুঝতে হবে পাট কাটার সময় হয়েছে। ধারালো কাঁচি দিয়ে পাট কেটে চিকন মোটা এভাবে পাটের আঁটি আলাদাভাবে বেঁধে নিতে হবে। আঁটি বাঁধা অবস্থায় ৩-৪ দিন জড়ো করে রেখে দিলে পাতা ঝরে যাবে। এরপর মৃদু স্রোতযুক্ত পানিতে সোজা/আড়াআড়িভাবে পাট জাগ দিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে প্রতি আঁটির ওজন যেন ১০ কেজির বেশি না হয়। এ সময় পাটের বিছাপোকা, ঘোড়া পোকা পাটের কচি পাতা, ডগা ও কুঁড়ি খেয়ে ফেতে পারে। চেলে পোকা ডগা ছিদ্র করতে পারে। এছাড়া ক্ষুদে মাকড়সা, পাতার হলদে রোগসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাটকে রক্ষা করতে হলে পোকার ডিমের গাদা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে, আগাছা পরিস্কার, আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা, পোকা খাদক পোকার জন্য জমিতে ডাল-পালা পুঁতা এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদিত মাত্রায় উপযুক্ত বালাইনাশক সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হলে ভাল ফল পাওয়া যায়। পাট আঁেশর গুণাগুণ মূলত নির্ভর করে সঠিক ভাবে পাট পচনের ওপর। রিবন রেটিং বা পাটের ছালকরণ ও পচন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

আবহাওয়া এবং মৌসুম জনিত কারণে এ সময় শাকসবজি আবাদ ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও আবহাওয়ার সাথে সমন্বয় করে আন্তরিকতা এবং সুষ্ঠু প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিছু শাকসবজি যেমন- ডাঁটা, গিমাকলমি, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিংগা, শশা, ঢেঁড়স, বেগুনসহ অন্যান্য শাকসবজি ভালভাবেই আবাদ করা যায়। এসব সবজির ভাল ফলন পেতে হলে গোড়ায় মাটি দেয়া, প্রয়োজনীয় সার ব্যবহার করা, পানি ব্যবস্থাপনা, আগাছা পরিস্কার, বাউনি বা মাচা ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত বৃদ্ধি হলে ১৫-২০ % লতাপাতা কেটে ফেলা, সবজির হস্তপরাগায়ন এবং পোকা ও রোগ দমন যথাযথভাবে করতে হবে।

এসময় আগাম জাতের শিম এবং লাউয়ের জন্য উঁচু জমিতে ১ ফুট চওড়া এবং ১ ফুট গভীর মাদা তৈরি করে ১ মিটার প্রায় ৩ ফুট দূরত্বে একক বা জোড়া সারি করে জমিতে নকশা করে বীজ বপন করতে পারেন। ভাল ফলনের জন্য প্রতি গর্তে ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ২ কেজি ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ভালভাবে মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রতি মাদায় ৩-৪ টি ভাল সবল বীজ রোপন করতে হবে। বর্ষার পানি যাতে শিমের মাদায় কোন ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

সারা বছরের মধ্যে এসময় বৃক্ষ জাতীয় গাছের চারা লাগাবার উপযুক্ত সময়। এসময় বৃক্ষ রোপন অভিযান চলছে সারাদেশে। যেখানেই উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যাবে যেমন- বসতবাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তাঘাট, পুকুরপাড়, বাঁধ, নদীর পাড়, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা এবং পতিত অনাবাদি জমিতে পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা যায়। সরকারী বা বেসরকারী নার্সারী থেকে সুস্থ সবল চারা সংগ্রহ করতে হবে। চারা রোপণের আগে ১-২ ফুট চওড়া এবং ১-২ ফুট গভীর গর্ত করে পরিমাণমত পঁচা জৈব সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরার ৭-১০ দিন পর গর্তের মাঝখানে পলিব্যাগ সরিয়ে মাটিসহ চারা বা কলম রোপণ করতে হবে। রোপণের পর শক্ত খুঁটির সাথে চারা বা কলম বেঁধে দিতে হবে। চারা রোপনের পর বেড়া বা ঘেরা দিয়ে চারা রক্ষা করা, গোড়ায় মাটি দেয়া, আগাছা পরি¯কার, সেচনিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃষ্টি বা বন্যার কারণে এসময় পুকুরের পানি উপচিয়ে যেতে পারে সাথে মাছও চলে যাবে। তাই দেরি না করে ভালভাবে পুকুরের পাড় বেঁধে দিন। ভাল বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ুন। আধুনিক উপায়ে মাছ চাষে সাধারণত প্রতিশতকে মাছের সংখ্যা ৩০-৩৫ টি, মাছের জাত এবং পরিমিত সুষম খাবারের নিশ্চয়তা করতে হবে। আপনি চাইলে অংশীদারি পুকুরে বা পর্যাপ্ত পানিসীমায় অনায়াসে স্বল্প খরচে খাঁচায় মাছ চাষ করতে পারেন। তবে যে কোন মাছ চাষে মৎস্যবিদ বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে খরচ কম হবে লাভ বেশি হবে।

এসময় বৃষ্টি বা বন্যার কারণে গোচারণ ভূমি পানিতে তলিয়ে যায় এবং ঘাসের যেমন অভাব দেখা দেয় তেমনি এরা চলাফেরা করতে পারে না। এসময় আগে সংরক্ষণ করা শুকনা খড়, ভূসি, চালের কুড়া, অন্যান্য খড় বিছালি খাওয়াতে হবে। মাঠ-ঘাট থেকে সংগৃহীত সবুজ ঘাস ভালোভাবে পরিস্কার করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে হবে। এ সময় গলাফোলা, বাদলা, তড়কা, ক্ষুরা রোগ মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে। প্রতিষেধক টিকা দেয়া, প্রাণি চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা ও যতœ প্রয়োজনে নিতে হবে। এখন গবাদি পশুর কৃমির আক্রমণ বেশি হয়। সুতরাং কৃমির ওষুধ দ্রুত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষি ভূবনের অনেক কিছু তথ্য এখনও বলা হয়নি, তাই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার নিকটতম উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিস, প্রাণিসম্পদ অফিস ও মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন।
 
 
 
জগন্নাথপুরে ফলবাগানের কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
                                                                                       17.05.2016
শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় ফলবাগানের কৃষকদের মধ্যে জৈব  ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মহাপরিচালক শেখ ইউসুফ হারুন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোক্তাদির আহমেদ মুক্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির,উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,প্রেস ক্লাবের সভাপতি সহ সাংবাদিকবৃন্দ। প্রধান অতিথি বলেন ”আমরা খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছি, এখন নজর দিতে হবে জনসাধারণের পুষ্টির দিকে”।

 

 

জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষি
15.05.2016


পাকা ও সুমিষ্ট ফলের মৌ মৌ গন্ধ জ্যৈষ্ঠ মাস জুড়ে বাংলার পথ ঘাট প্রান্তর। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গিসহ নানা রকমের মৌসুমি ফলের সুভাসিত ঘ্রাণে আমাদের সবাইকে মাতোয়ারা করে। আমাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের সাথে রঙ্গিন মৌসুমি ফল আমাদের মনকে আন্দোলিত ও মাতোয়ারা করে। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ফলের আচার, চাটনি, জ্যাম জেলি এসব তৈরি করে রাখার সময়ও এই মাস, যা পরবর্তিতে বেশ মজা করে খাওয়া যায়। জ্যৈষ্ঠ মাস মধু মাস, চলুন এই মধুমাসের কৃষিতে করণীয়গুলো জেনে নেই।  

মাঠ পর্যায়ে এখন বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। যারা দেরিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন আপনার জমির ধান শতকরা ৮০ পাকা হয়ে গেলে জমির ধান কেটে সংগ্রহ করে ভালোভাবে মাড়াই-ঝাড়াই করে সংরক্ষণ করতে হবে।  কারণ যে কোন সময় ঝড়, শিলা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে পাকা ধানের ক্ষতি হতে পারে। ধান কাটার ক্ষেত্রে রিপার মেশিন বা সম্ভব হলে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করলে সময় ও খরচ কম হয়। বীজ ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। বীজ ধানকে ভালভাবে শুকিয়ে প্লাষ্টিকে ড্রাম, মাটির পাতিল, টিনের ড্রামে বা প্লাষ্টিকের বস্তায় সংরক্ষণ করতে হবে।

আউশ ধানের বীজ ইতোমধ্যে বোনা হয়ে যাওয়ার কথা। না হয়ে থাকলে দেরি না করে এক্ষুণি বপন করে নিন। চারার বয়স ১২-১৫ দিন হলে ইউরিয়া সারের প্রথম কিস্তি হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রথম কিস্তি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগের ১৫ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা বাড়াতে জমিতে সার ব্যবহারের সময় ছিপছিপে পানি রাখ এবং আগাছা মুক্ত রাখা জরুরি। রোপা আউশের বেলায় গুড়া ইউরিয়ার পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করতে পারেন। কারণ সারের অপচয় কম হয় বলে ২৫ ভাগ সার কম লাগে, ফলনও বেশি হয়। চারটি ধানের গুছির মাঝখানে ২টি গুটি ব্যবহার করতে হবে। গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করা হলে ২৫-৩০ দিনের মধ্যে জমিতে নামা যাবে না।

আপনার আউশ ও বোনা আমন জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে পামরী পোকা। পামরী পোকা ও কীড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে গাছের বেশ ক্ষতি করে থাকে। পামরী আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে সতর্ক থাকলে হাতজাল, মশারি এসব দিয়ে প্রাথমিকভাবে পোকা ধরে মেরে ফেলা যায়। তাছাড়া আক্রান্ত গাছের গোড়া থেকে ৫ সে.মি অর্থাৎ ২ ইঞ্চি পরিমাণ রেখে বাকী অংশ কেটে কীড়া ও পোকা ধ্বংশ করা যায়। প্রতিটি ধানের গোছায় যদি ৪টি বয়স্ক পামরী বা প্রতিটি পাতায় ১৫টি কীড়া দেখা গেলে বুঝতে হবে আক্রমণ ব্যাপক হয়েছে। তখন সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। কীটনাশক ব্যবহার করা হলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
 জ্যৈষ্ঠ মাসেই রোপা আমন ধানের বীজতলা করতে পারেন। উঁচু রৌদ্রোজ্জ্বল জমি ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় করে নিতে হবে। ভাল মানের চারা পাওয়ার জন্য প্রতিটি বীজতলার বেড জমির মাপ অনুযায়ী লম্বা এবং প্রস্থে ১২০ সে.মি অর্থাৎ ৪ ফুট রাখতে হবে। বীজতলার উচ্চতা অন্তত ১৫ সে.মি (৬ ইঞ্চি) উঁচু রাখতে হবে। সেচ নিকাশসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যার জন্য বীজতলার বেডের চারদিকে ৪৫ সে.মি (১.৫ ফুট) চওড়া নালা রাখতে হবে। জমি উর্বর হলে সাধারণত কোন সারের প্রয়োজন হয় না। প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

জমি অনুর্বর হলে বীজতলার মাটির সাথে জৈব সার মিশালে ভাল হয়। বীজতলায় বীজ বোনার আগে একস্তর ছাই ছিটিয়ে দিলে চারা তোলার সময় উপকার পাওয়া যায়। সুস্থ সবল চারা ভাল ফলনের জন্য প্রাথমিক নিশ্চয়তা তাই যতœ এবং সতর্কতার সাথে বীজতলা পরিচর্যা করুন সুস্থ সবল চারা উৎপাদন করুন।

এসময়ে আপনার পাট ক্ষেতের জমির আগাছা পরিস্কার, ঘন হলে দূর্বল চারাটি তুলে ফেলা, ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ করা, মাটিতে রস না থাকলে সেচ দেয়া এবং পানি জমে থাকলে নিকাশের ব্যবস্থা করা দরকার। পাটের শাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, সুতরাং নিড়ানি দিয়ে অতিরিক্ত পাটের চারা তুলে ফেলে না দিয়ে শাক হিসেবে খেতে পারেন। বিছা পোকা পাটের জমিতে আক্রমণ করতে পারে। ডিমের গাদা এবং পাতার নিচের ছোট কীড়ার দল সংগ্রহ করে মেরে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পাট ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি বা ডাল পালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে দিলে পাখি পোকা খেয়ে ফেলবে। এতে পোকার আক্রমণ অনেক কমে যাবে। আক্রমণ খুব বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

এখন মাঠে বা বসতবাড়ির আঙ্গিনার গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির পরিচর্যা করা জরুরি। শাকসবজির জমিতে সারের উপরিপ্রয়োগ, আগাছা পরিস্কার, গোড়ায় মাটি তোলে দেয়া, লতাজাতীয় সবজির মাচাতুলে দেয়ার কাজ করতে হবে। লতা জাতীয় সবজির বাড়-বাড়তি বেশি হলে কিছু কিছু (১০-১৫%) লতা বা পাতা কেটে ছাঁটাই করে দিতে হবে। আশা করা যায় ছেঁটে দিলে তাড়াতাড়ি এবং বেশি ফল ধরবে। শাক সবজিতে যদি কীটনাশক ব্যবহার করতেই হয় তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে বিষের প্রভাব ৩-৪ দিনের বেশি থাকে সেসব কীটনাশক ব্যবহার করা না হয়। কুমড়া জাতীয় সবজির হস্ত পরাগায়ন নিয়মিত করবেন দেখবেন ফলন ভাল হয়েছে।

বছরে দু’বার গাছপালায় সার ব্যবহার করতে হয়। বর্ষার আগে একবার এবং বর্ষার পরে একবার। বর্ষার আগে এখনই গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়, দেড়ি না করে এখনই সার প্রয়োগ করে নিন। নতুন করে ফলজ, ওষুধি বা বনজ গাছের চারা রোপণ করতে চাইলে নির্ধারিত স্থানে গর্ত করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাখুন। ৭-১০ দিন পর চারা রোপণ করতে পারেন।

বর্ষা আসার আগেই গবাদিপ্রণির বাসস্থান সংস্কার বা মেরামত করুন এবং ঘরের আশপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। বর্ষায় যাতে প্রাণি-খাদ্যের অভাব না হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে প্রাণিরর খাদ্য সংরক্ষণ করুন। বর্ষার আগে অবষ্যই আপনার গরু-বাছুরকে প্রয়োজনীয় টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এসময়ে গবাদিপ্রাণিকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে। হাঁস-মুরগির বেলায়ও নিয়মিত ভ্যাক্সিন দেয়ার ব্যবস্থা করুণ এবং সুষম খাদ্য খাওয়ান।

এখন মাছের প্রজননের সময়। মাছ চাষের জন্য যারা হ্যাচারি করেছেন এবং ডিম থেকে পোনা করবেন তারা এ সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। আঁতুর পুকুরের পোনা আঙ্গুলের সমান লম্বা হলে চারা পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিন। বর্ষার আগে পুকুর পাড়ের সংস্কার করে নিন।

প্রিয় কৃষি জীবি ভাই ও বোনেরা, জেনে নিলাম জ্যৈষ্ঠ মাসে কৃষিতে করণীয় বিষয়াদিগুলো। আরোও এ বিষয়গুলো বিস্তারিত ও নতুন কিছু জানার জন্য আপনি আপনার নিকটতম উপ সহকারী কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিস, প্রাণি সম্পদ অফিস ও মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন।
 
বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব
কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ
15.05.2016

যদি তুমি জানো আগামীকাল কিয়ামত হবে তবুও আজ একটি গাছের চারা রোপণ কর। কেউ যদি একটি ফল গাছ রোপণ করে এবং সেই গাছের ফল পাখি কিংবা মানুষ খায় এমনকি চুরি করেও খায় তবুও ঐ গাছের মালিক সদকার সওয়াব পায়। কেউ বৃক্ষরোপণ করে মারা গেলে তিনি মৃত্যুর পরও সওয়াব পেতে থাকেন। পবিত্র হাদিসের অমূল্য বাণীগুলো থেকে বুঝতেই পারছি বৃক্ষরোপণ করা কত বড় মহৎ ও সওয়াবের কাজ। নির্মল পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষহীন পরিবেশ মস্তকবিহীন দেহের সমান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। পরিবেশ বলতে আমাদের  আশে পাশে দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত বস্তু, যেমন নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, বায়ু, আলো, শব্দ, এসবের সমন্বিত প্রভাব যা মানুষের এবং সমস্ত জীব জগতের জীবন যাত্রাকে প্রভাবিত করে।  কথায় আছে যেই দেশে নাই তরু, সেই দেশটা মরু।
বৃক্ষ আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করে: গ্রীন হাউস প্রভাবকে প্রশমিত করে, মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়, খাদ্যের যোগান দেয়, বিশুদ্ধ বাতাস দেয়, দূষিত বাতাস শোষন করে ও এর বিষাক্ততা থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে, ঔষধের উপাদান সরবরাহ করে, জ্বালানি, খুটি ও গো খাদ্যের যোগান দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমিত করে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ায়, আসবাব পত্রের জন্য কাঠ সরবরাহ করে, মানুষের আপদকালে বীমা তুল্য কাজ করে, লবনাক্ততা হ্রাস করে। তাছাড়াও গাছ অক্সিজেন তৈরি করে যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন; বাতাসের অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ নির্মল রাখে; মাটি পরিস্কার অর্থাৎ মাটির বিষাক্ত পদার্থ ও মাটির অন্যান্য ক্ষতিকার পদার্থ শুষে নিয়ে মাটিকে পরিস্কার রাখে; বাতাস পরিস্কার রাখে, বাতাসের ধূলিকণা ধরে রাখে, তাপ কমায় এবং বায়ু দূষনকারী পদার্থ যেমন- কার্বন-মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, শোষণ করে; ছায়া দেয় এবং আবহাওয়া ঠা-া রাখে;  মাটির ক্ষয় রোধ করে। গাছের শিকর মাটিকে বেধে রাখে এবং গাছের পাতা বাতাসের গতি ও বৃষ্টির গতিকে দমিয়ে রাখে যা মাটির ক্ষয়রোধে সহায়াতা করে; যখন আবাসন গৃহে সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয় তখন তাঁর মূল্য অনেক বেড়ে যায়। তাই  গাছ আবাসন সম্পদের মূল্য বাড়ায়; মাটির মধ্যে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে; মাটির অভ্যন্তরে পানির উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে; প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুম-লে যে পনি ছাড়ে দেয় তাতে পরিবেশ শীতল থাকে, মেঘ ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়; আমাদের বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা করে।
পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। আমাদের রয়েছে সরকারী নিয়ন্ত্রণাধীন মাত্র ১০ ভাগ বনভূমি এবং ৭ ভাগ গ্রামেগঞ্জে রোপিত বা সৃজিত বনভূমি। পর্যাপ্ত বনভুমি না থাকায় আমরা যে সমস্যা গুলোর মধ্যে রয়েছি বা সম্মুখীন তা- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চল মরুময় হয়ে যাচ্ছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, বাতাসে জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুম-লে ওজন স্তরে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ক্ষতিকর অতি বেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে মেরু অঞ্চল, এন্টার্টিকা মহাদেশের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মরুময়তা, অনাবৃষ্টি (রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চল), অসময়ে বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, প্লাবন, বিলম্ব বৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ০২ দশকের মধ্যে সারা বিশ্বের ৬০০ মিলিয়ন মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বর্তমানে বার্ষিক ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ হবে ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হবে বাংলাদেশ।
বৃক্ষনিধনের কুফল:
ক্রমাগত বৃক্ষ নিধনের ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ আজ বিলুপ্ত প্রায়। বাংলার হাজারও প্রজাতির পশুপাখি ও জলজ প্রাণি হারিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ০৫ হাজার প্রজাতির গাছের মধ্যে ১০৬ টির অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। ৬৩২ টি প্রজাতির পাখির মধ্যে ১২ টি প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত, ৩০ টি প্রজাতি বিলুপ্তের পথে। ১১০ টি পশু প্রজাতির ৪০ টির অস্তিত্ব নেই। ৭৮০ টি প্রজাতির মাছের মধ্যে ৫৪ টির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, ২০২০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ৩০ ভাগ কমে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার ২২ শতাংশ কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
বৃক্ষের আরোও কিছু গুণাগুণ:
একটি গাছ ০১ বছরে আমাদেরকে যা দেয় তা হলো ১০ টি এয়ারকন্ডিশনার সমপরিমান শীততাপ তৈরি করে, ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষন করে এবং ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ০১ গ্রাম পানি বাস্পীভবনে ৫৮০ ক্যালরী সৌর শক্তি ব্যয় হয়। ০১ টি বড় গাছ দিনে ১০০ গ্যালন পানি বাতাসে ছেড়ে দেয়। ০১ হেক্টর সবুজ ভুমি থেকে উদ্ভিদ প্রতিদিন গড়ে ৯০০ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে এবং ৬৫০ কেজি অক্সিজেন দান করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকালে। ০১ টি মাঝারী আকৃতির আম গাছ ৪০ বছরে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের অক্সিজেন তৈরি করে। ০৫ হেক্টর পরিমান বনভূমি থাকলে ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা হ্রাস হয়, ভুমিক্ষয় রোধ এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়। বৃক্ষরাজি ৮৫-৯০% শব্দ শোষণ করে, শব্দ দূষণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। এক লাখ ইট পোড়াতে ২৫০০ মন জ্বালানি কাঠ দরকার হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর রান্নার জন্য প্রায় ১০৭ কোটি মন জ্বালানি কাঠ দরকার হয়।
এক জরিপে দেখা যায়, ফিনল্যান্ডে ৭৪%, মায়ানমারে ৬৪%, জাপানে ৬৩%, সুইডেনে ৫৫%,কানাডাতে ৪৫%, যুক্তরাষ্টে ৩৪% এবং ভারতে ২০%। আর বাংলাদেশে মাত্র ০৯% মতান্তরে ১৭% বনায়ন আছে। অথচ কমপক্ষে ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন।  একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০ গ্রাম সবজী এবং ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে আমরা মাথা পিছু ৪০-৪৫ গ্রাম করে ফল পেয়ে থাকি। সাধারণত মানুষের মেধা বিকাশের শতকরা ৪০ ভাগ হয়ে থাকে মাতৃগর্ভে এবং অবশিষ্ট ৬০ ভাগ বিকাশ হয়ে থাকে জন্মের ০৫ বছরের মধ্যে। ভিটামিন-এ এর অভাবে প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার শিশু রাতকানা রোগে অন্ধত্বের স্বীকার হয়।  অথচ পুষ্টি যোগান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফলগাছের রয়েছে ব্যাপক অবদান।
ইতিহাসের দিকে তাকালে লক্ষ করা যায়, গাছ লাগিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা:), স¤্রাট আকবর তৈরি করেছেন আ¤্রকানন যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আজও দন্ডায়মান, স¤্রাট শাহজাহান তৈরি করেছেন লাহোরের সালিমারবাগ,  ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান এখনও জলন্ত দৃষ্টান্ত। তাছাড়া প্রচলিত হয়ে আছে, কোন ভালো উদ্যোগ বা কাজ শুরু করলে তার উদ্বোধন করা হয় গাছ লাগিয়ে। এক সময়ের ঘোড়া দৌড়ের জুয়ায় আড্ডা ছিল ঐতিহাসিক রেসর্কোস ময়দান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নারিকেল গাছের  চারা রোপণ করে রেসর্কোস ময়দানের নতুন নাম দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ১৮ ক। মোতাবেক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে।
 
ফলদ গাছ : আদর্শ চারা নির্বাচন, রোপণ কৌশল ও রক্ষণাবেক্ষণ
কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ
15.05.2016

পুষ্টি চাহিদা পূরণ, মেধার বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল আমাদেও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গবেষকদের মতে জনপ্রতি প্রতিদিন ১১৫ থেকে ১২৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন, কিন্তু আমরা খেতে পাচ্ছি মাত্র ৩৫-৪৫ গ্রাম। এর মূল কারণ চাহিদার তুলনায় যোগানের সীমাবদ্ধতা। তাই বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফলের বাগান সৃজন করে সারা বছর ফল খাওয়ার সুযোগ তৈরিতে ফলদ বৃক্ষরোপণ অত্যাবশ্যক। ফলদ গাছ রোপণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। ফলদ গাছের চারা রোপণের নানাবিধ কৌশল নিয়ে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
আদর্শ চারার বৈশিষ্ট্য:
চারা নির্বাচনের সময় কতকগুলো বিষয় খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার। সে বিষয়গুলো হলো, ভাল এবং কাঙ্খিত জাতের চারা; কলমের চারা হলে মাতৃ গুণাগুণ সঠিক, অল্প সময়ে ফলন দেয় এমন চারা; বিশ্বস্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ; রোগমুক্ত ও সুস্থ সবল চারা; সঠিক বয়সের চারা অর্থ্যাৎ চারার বয়স ০১ হতে ০২ বছর হলে খুবই ভালো; চারার কান্ড মোটা, খাটো ও মূলের বৃদ্ধি সুষম; কান্ড ও শিকড়ের অনুপাত ৪ ঃ ১ হলে ভালো; চারার মূল শিকড় অবশ্যই অক্ষত ও ভাল; চারার কান্ডটি ০২ থেকে ০৩ টি শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট হলে ভাল এবং চারা অবশ্যই খাড়া; শক্ত ও মজবুত জোড়া বিশিষ্ট চারা কলম; তাছাড়া চারা গাছে ফুল, ফল না থাকাই উত্তম। ফলের চারা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।
চারা রোপণের সময়:
চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে সাধারণত সারাবছরই ফলের চারা লাগানো যায়। তবে বর্ষার আগে অর্থ্যাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস এবং বর্ষার পরে সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। যে কোন গাছের চারা রোপণ করার সর্বোত্তম সময় দিনের শেষভাগে অর্থ্যা পড়ন্ত বিকেল বেলায়। বর্ষার শুরুতে বা প্রথম বৃষ্টির পরপরই চারা লাগানো উচিত হবে না।  কারণ প্রথম কয়েকদিন বৃষ্টির পরপরই মাটি থেকে গরম গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় যা চারা গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর এমনকি চারা মারা যেতে পারে।  
চারা বা কলম রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কৌশল:
চারা রোপণের জন্য শুরুতেই সঠিক জায়গা নির্বাচন করা উচিত। যেখানে সরাসরি সূর্যের পড়ে, বন্যামুক্ত উঁচু জায়গা নির্বাচন করে জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ফলদ গাছের ধরন ও জাতভেদে নির্দিষ্ট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। পরবর্তীতে চারা রোপণের জন্য বড়সড় আয়তনের একটি গর্ত খনন করতে হবে। বড় আকারের গর্তের আয়তন লম্বায় ৯০ সেমি, প্রস্থে ৯০ সেমি এবং গভীরতায় ৯০ সেমি হবে। বড় আকৃতি গর্তে সাধারণত আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল এসব গাছের লাগানো হয়। মাঝারি আকৃতির গর্ত লম্বায় ৭৫ সেমি, প্রস্থে ৭৫সেমি এবং গভীরতায় ৭৫ সেমি হবে। ছোট আকৃতির গর্ত লম্বায় ৪৫ সেমি, প্রস্থে ৪৫ সেমি এবং গভীরতায় ৪৫ সেমি হবে। ছোট আকৃতির গর্তে সাধারণত কলা, পেঁপে, কমলা, মাল্টা এসব গাছ লাগানো হয়ে থাকে। গর্ত খনন করার সময় নিচের মাটি একদিকে এবং উপরের মাটি অন্যদিকে রাখতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সাথে চারা গাছের প্রকার ও জাতভেদে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার যথা ইউরিয়া সার (৩০০-৫০০ গ্রাম), টিএসপি সার (২৫০-৪০০ গ্রাম), এমওপি সার (২০০-২৫০ গ্রাম), জিংক সার (৫০-১০০ গ্রাম) ও বোরণ সার (১০-২০ গ্রাম) ব্যবহার করতে হবে। তবে অবশ্যই পঁচা গোবর (১৫-২০ কেজি) বা কম্পোস্ট মাটির সাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যবহার করতেই হবে। সার মিশানোর পরে ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হয়। মাটি শুকনো হলে পানি দিয়ে হালকা ভিজিয়ে নিলে ভালো হবে। গর্তে মাটি ভালোভাবে বসিয়ে মাঝখানে কিছু উঁচু করে নিতে হবে।
নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহের পরপরই চারাগুলোকে ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েকদিন শুয়ে রাখতে হবে। এই অবস্থাকে চারা গাছের হার্ডেনিং বা সহিষ্ণুকরণ/শক্ত করণ বলা হয়। হার্ডেনিং এর ফলে চারা গাছের মরে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। এ অবস্থায় মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চারার গোড়ায় লাগানো মাটির চাকাটি যেন কোনভাবেই ভেঙ্গে না যায়। চারা লাগানোর আগে রোগাক্রান্ত, জীর্ণ পাতা ও লিকলিকে ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। তারপর সতেজ, সবল, রোগমুক্ত, সোজা এবং কম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট চারা অর্থ্যাৎ আদর্শ চারা নির্বাচন করতে হবে চারায় সংযুক্ত পলিব্যাগ এমনভাবে অপসারণ করতে হবে যাতে চারার গোড়ার মাটির চাকা ভেঙে গুড়িগুড়ি না হয়ে যায়।
তারপর চারার গোড়ার মাটির চাকাসহ চারাটি গর্তে আস্তে আস্তে আলতো করে অত্যন্ত যতœ সহকারে বসিয়ে দিতে হবে। চারার গোড়ার চারপাশে কোঁকড়ানো বা আঁকাবাঁকা শিকড় কেটে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বীজতলায় চারাটির যতটুকু অংশ মাটির নিচে ছিল রোপণের সময় ঠিক ততটুকু অংশ মাটির নিচে রাখতে হবে। তারপর চারার চারপাশে ফাঁকা জায়গায় প্রথমে উপরের উর্বর মাটি এবং পরে নিচের মাটি দিয়ে ভালোভাবে পূরণ করে দিতে হবে। চারপাশের মাটি ভালোভাবে চেপে ঠেসে দিতে হবে যাতে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সদ্য লাগানো চারায় খুঁিট দেওয়া। চারা যেন হেলে না পড়ে সে জন্য শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে চারার সাথে এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে যেন চারা খুঁিটর সাথে লেপ্টে লেগে না থাকে। চারা রোপণের পরপরই চারার গোড়ায় ও পাতায় পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। গবাদি পশু যথা ছাগল, গরু, ভেড়া এসবের হাত থেকে চারাকে রক্ষা করার জন্য খাঁচা দিতে হবে। মনে রাখা জরুরী, কথায় আছে ছাগলের দাতে নাকি বিষ থাকে অর্থ্যাৎ ছাগল যদি চারা গাছ খেয়ে ফেলে তাহলে তা আর মাথা উঁচু করে সোজা হয়ে দাড়াতেই পারে না। নতুন কুঁড়ি বা পাতা বের না হওয়া পর্যন্ত সার প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। গাছের বৃদ্ধি আশানুরুপ না হওয়া পর্যন্ত ফুল ফল ভেঙ্গে দিতে হবে।  
চারা গাছ লাগানোর পর কোনো কারণে মারা গেলে দ্রুত নতুন চারা ঐ গর্তে রোপণ করতে হবে। রোপণকৃত চারায় পোকা বা রোগে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে বালাই দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। গাছের আকার আকৃতি সুন্দর ও ফলন বৃদ্ধি করার জন্য অঙ্গছাঁটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সিকেচার দিয়ে নিয়মিতভাবে রোপণের দুবছরের মধ্যে পার্শ্ব শাখা, চিকন, নরম ও রোগা শাখা কেটে দিতে হবে। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে চারার বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রতি বছর সারের পরিমাণ ১০ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। ফলন্ত গাছে অন্তত বছরে দুইবার সার দিতে হয়। একবার বর্ষার আগে এবং আরেকবার বর্ষার পরে। সুষম সার অবশ্যই জৈব এবং রাসায়নিক সারের সমন্বেেয় দিতে হবে। বড় গাছের গোড়া থেকে কমপক্ষে ০১-০২ মিটার দূরত্ব (গোড়ার কাছাকাছি অংশ যেন অক্ষত থাকে)পর্যন্ত মাটি কোঁদাল দিয়ে ঝুরঝুরি করে সার ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া উচিত। সার দেয়ার পর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
ফলগাছে রোগবালাইয়ের দ্বারা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত, ফুল ফল ধারণে ব্যাঘাত এবং ফলনে অনাকাঙ্খিত প্রভাব পরে। তাই পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত চাষাবাদ করতে হবে। তাছাড়া সুস্থ, সবল চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার, আগাছা দমন, সেচ বা নিকাশ, শীতের পর বাগান চাষ দেয়া, অঁঙ্গছাটাই করা ও প্রয়োজন হলে অনুমোদিত বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে ও সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে।
বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি, টিলা, পাহাড়ী এলাকা খালি না রেখে আজই পরিকল্পিতভাবে ফলগাছের চারা রোপণ করুন। আপনি ভাল থাকুন, আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখুন। দেশি ফলে পুষ্টি বেশি তাই বেশি বেশি দেশি ফলের গাছ লাগান।
লেখক: আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।
 
হাওর অঞ্চলে মাছ চাষ, দিন বদলের সুবাতাস
10.05.2016

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, সিলেট এর উদ্যোগে গত ১০ মে, ২০১৬ খ্রি. তারিখে সিলেট শহরের সুবিদ বাজার এলাকার তারাদিন চায়নিজ রেস্টুরেন্ট এ আয়োজিত হল জেলা পর্যায়ে কর্মশালা-২০১৬। হাওর অঞ্চলে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হলো। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. মোশারেফ হোসেন, উপপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগ, সিলেট।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব আবু হেনা মো. মোস্তাফা কামাল, উপ প্রকল্প পরিচালক, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাছের পোনা বিতরণ প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তর। পরবর্তীতে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সুপারিশমালা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জনাব মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। হাওর হচ্ছে মাছের খনি। এই অর্জনে হাওরের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দেশীয় মাছ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির জন্যই এই প্রকল্পের আওতায় বিল নার্সারী স্থাপন, বিল খনন, বিল পুন:খনন, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, মাছ ও পোনা মজুদ, মৎস্যচাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, জনগনকে উৎসাহিতকরণ, মৎস্য আইন সম্পর্কে প্রচার, প্রসার ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাছাড়া তিনি বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
হাওরে মৎস্য চাষ, দিন বদলের সুবাতাস নিশ্চিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্তৃক হাওর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, জনবল বাড়ানো, বিল পুন:খনন, মৎস্য অভয়াশ্রমের সংখ্যা বাড়ানো, বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি, গবেষণা, গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাইমিনুর রশিদ, আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট। জনাব শঙ্কর রঞ্জন দাশ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিলেট এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারি, তথ্য সহকারি ও মৎস্যজীবি কৃষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনাব দ্বীজরাজ বর্মণ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিলেট সদর, সিলেট।
বিজ্ঞপ্তি: কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।
 
 
প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে কৃষি ও কৃষিবিদদের অবদান সবচেয়ে বেশি, কৃষি বিভাগ উন্নয়নের পথপ্রদর্শক-
জনাব মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট বিভাগ, সিলেট।

কৃষির উন্নয়নে তথা দেশের উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন জনাব মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট বিভাগ, সিলেট। গত ১১ মে, ২০১৬ খ্রি. রোজ বুধবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনাতয়নে সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট বিভাগ, সিলেট। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট অঞ্চলের কৃষি বিষয়ক কার্যক্রমের তথ্যাদি উপস্থাপন করেন জনাব কৃষিবিদ কৃষ্ণ চন্দ্র হোড়, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট। পরবর্তীতে প্রকল্প পরিচিতি বিষয়ক তথ্যাদি উপস্থাপন করেন জনাব মো. ওহিদুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক, সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ক তথ্যাদি উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ের সম্মানিত উপপরিচালকগণ যথাক্রমে জনাব কৃষিবিদ মো. শাহজাহান, উপপরিচালক, মৌলভীবাজার; জনাব কৃষিবিদ মো. শাহ আলম, উপপরিচালক, হবিগঞ্জ; জনাব কৃষিবিদ মো. জাহেদুল হক, উপপরিচালক, সুনামগঞ্জ এবং জনাব কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, সিলেট। কর্মশালায় উপস্থাপিত হয় সিলেট অঞ্চলে পতিত জমি থাকার পিছনে নানা কারণসমূহ।স্থানীয় কৃষি বিভাগ এই কারণ ও সমস্যাদি নির্ণয় ও সনাক্ত করেছে । উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো সেচের পানির অভাব, পাথর ও গ্যাসের কারণে সেচ যন্ত্র স্থাপনে সমস্যা, পানির স্তর গভীরে থাকা, বড় কৃষকদের চাষাবাদে অনীহা, জমির মালিক বিদেশে থাকা, জমি বর্গা দিতে অনীহা ও শ্রমিক সংকট। উপপরিচালক মহোদয়গণ এ সব সমস্যাদি সমাধানের বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপিত করেছেন। বিশেষ করে কৃষি ঋণ, সেচের সুবিধা, ফসল মাড়াইয়ের মেশিন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। সিলেট এলাকার উপযোগী কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক সমৃদ্ধ উপস্থাপনা দেন জনাব কৃষিবিদ ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, উর্ধ¦তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ও এফ আর ডি, বারি, সিলেট। সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি চাষের আওতায় আনার জন্য একটি প্রকল্প এর ডিপিপি উপস্থাপন করেন জনাব কৃষিবিদ ড. মামুনুর রশিদ, উপপরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়, সিলেট অঞ্চল, সিলেট। পরবর্তীতে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার বিভিন্ন যুক্তি, তথ্য ও মতামত উপস্থাপনের জন্য মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মো. নুর হোসেন মিঞা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; উপপরিচালক, মৌলভীবাজার; কৃষক প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ; উপপরিচালক, বিএডিসি; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিলেট; অতিরিক্ত উপপরিচালক, হবিগঞ্জ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন সিলেট অঞ্চলে পতিত জমি চাষের আওতায় আনা ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। বিবেকের তাড়নায় সংশ্লিষ্ট সকল কার্যালয় যেমন প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, বিএডিসি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ উদ্যোগে সক্রিয় হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে কৃষি ও কৃষিবিদদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি সকলকে আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমে মহীয়ান হয়ে সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ করার আহবান করেন।
জনাব কৃষ্ণ চন্দ্র হোড়, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চল, সিলেট মহোদয়ের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, বিএডিসি, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, এটিআই, বারি, ব্রি, এসআরডিআই, এসসিএ, বিনা, উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র, হর্টিকালচার সেন্টার এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনাব আবাহন মজুমদার, উপজেলা কৃষি অফিসার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
 
সিলেট অঞ্চলে আউশ ধান উৎপাদনে চাষি ভাইদের করণীয়
 
  • রোপা আউশের উফশী জাত হিসেবে বিআর২৬, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান৪৮, ব্রি ধান৫৫ এবং বোনা আউশের উফশী জাত হিসেবে বিআর২১, বিআর২৪, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৪৩ আবাদ করতে হবে। 
  • 1.  খরা প্রবণ এলাকায় খরা সহিষ্ণু জাত যেমন ব্রি ধান৫৫ ও স্বল্প জীবনকাল জাত সম্পন্ন জাত আবাদ করতে হবে।
  • 2. অধিক অম্লীয় এলাকায় জমিতে শতক প্রতি ০৪ কেজি হারে ডলোচুন প্রয়োগ করে, হালকা চাষ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। 
  1. 3. আকস্মিক বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই স্বল্প জীবনকাল জাত ও নির্ধারিত সময়ে আবাদ করতে হবে। 
  2. 4. কম বয়সের (২০-২৫ দিন) সু¯’ সবল চারা রোপণ করতে হবে;
  3. 5. জমিতে ৮ ইঞ্চি পর পর লাইন বজায় রেখে, ৬ ইঞ্চি দূরত্বে প্রতি গুছিতে উফশী জাতের ২ থেকে ৩টি সু¯’ সবল চারা আধা ইঞ্চি গভীরতায় রোপণ করতে হবে;
  4. 6. রোপণের ৭-১০ দিনের মধ্যে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে;
  5. 7. জমিতে রসের অভাব হলে প্রয়োজনমতো সেচ দিতে হবে;
  6. 8. মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে জমিতে সার ব্যবহার করতে হবে। জৈবসার সহ সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। রোপা আউশে বিঘা প্রতি ১৭ কেজি ইউরিয়া সার, ০৮ কেজি টিএসপি সার, ০৯ কেজি এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। 
  7. 9. নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে সমন্বিত বালাই ব্যব¯’াপনার আলোকে পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রনে পার্চিং; (বাঁশের কঞ্চি/গাছের ডাল/ধৈঞ্চাগাছ পূঁতে দিয়ে) ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করুন; বিস্তারিত তথ্যের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।
প্রচারে - কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট অঞ্চল, সিলেট।                                                   
 
 
                                                             সিলেট অঞ্চলে কৃষক ভাইদের জরুরী করণীয়

প্রিয় চাষী ভাই, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে প্রায় প্রতি বছরই সিলেট অঞ্চলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার ফলে মাঠে বিদ্যমান উঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান আবহাওয়ায় যে কোন সময় আরও ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। মাঠে যদি বোরো ধান ৮০ ভাগ পাকা অবস্থায় থাকে তবে দেরি না করে তা কেটে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করুন। মেশিনের সাহায্যে ধান কাটার ব্যবস্থা করতে পারেন। আপনার নিকটস্থ যেখানে রিপার মেশিন আছে সম্ভব হলে রিপার মেশিন দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করতে পারেন।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের স্বাভাবিক কৃষি কাজ ও অগ্রগতিকে লন্ডভন্ড করে দেয়। বর্তমান করণীয় কাজগুলো যতেœর সাথে ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রাকৃতিক ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। মনে রাখতে হবে, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়।
 
                                                           
 
ভাবনায় বজ্রপাত, বিপন্ন কৃষকের জীবন

দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন, ২০১২ সালে মারা যায় ২০১ জন এবং  ২০১৩ সালে ২৮৫ জন। সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি) ঢাকা কার্যালয়ের গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে মারা যায় ৫০০ থেকে ৮০০ মানুষ। বিভিন্ন গণমাধ্যম রির্পোট মোতাবেক, গত এপ্রিল ২০১৫ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় প্রায় ২৪৬ জন। এসএমআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪০ টি বজ্রপাত হয়। ডেইলি স্টার পত্রিকার পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট মোতাবেক, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক বা কৃষিজীবি মানুষ (প্রায় ৫১%) এবং ফসলের মাঠে কর্মরত অবস্থায় অধিকাংশ কৃষক বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দি ডেইলী স্টার পত্রিকার এক গবেষণামূলক জরিপ মোতাবেক, বাংলাদেশে মে মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে মূলত এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে অধিকাংশ বজ্রপাত সংঘটিত হয়ে থাকে। গবেষণায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাগুলোর মত সুনামগঞ্জ জেলাটিও বজ্রপাত ঝুঁিক বা বজ্রপাত প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

                                                          বজ্রপাতে নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণে করণীয়

1. বাইরে খোলা জায়গায় কোন বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। গাছ থেকে কমপক্ষে ০৪ মিটার দূরে থাকতে হবে।
2. কোন উচু স্থানে অবস্থায় নেয়া যাবে না।
3. খোলা জায়গায় অথবা ফসলের মাঠে কাজ করা অবস্থায় আশ্রয়ের জায়গা না থাকলে যতটা সম্ভব নিচু হয়ে গুটিশুটি মেরে বসে পড়তে হবে, তবে মাটিতে শোয়া যাবে না।
4. জলাশয় থেকে দূরে থাকতে হবে। মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। নৌকায় ছৈয়ের নিচে অবস্থান নিতে হবে। নিচু হয়ে নৌকার পাটাতনে যথাসাধ্য কম স্পর্শ রেখে অবস্থান নিতে হবে।
5. বৈদ্যুতিক তারের নিচে তবে খুটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে । বাড়িতে যথাযথ বজ্র নিরোধক দন্ড ব্যবহার করতে হবে। ঘরের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। বজ্র থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্য জানালা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকতে হবে। বারান্দায় অবস্থান করা যাবে না।
 
 
 
বৈশাখ মাসের কৃষি
 
শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৩। ষড়ঋতুর প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিমনা মানুষ বৈশাখী মেলায় মেতে উঠে। মেতে উঠে বিভিন্ন পার্বন, উৎসব, আদর আপ্যায়নে এবং অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকেন বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার। 
বোরো ধান শতকরা ৮০ ভাগ পেকে যাওয়ার সাথে সাথেই ফসল কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে নিতে হবে। হাওড় এলাকায় ইতোমধ্যে বোরো ধান কর্তনের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। যত দ্রুত সম্ভব পাকা ধান কেটে মাড়াই করে নিন। সম্ভব হলে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যাদি সম্পন্ন করতে হবে। 
নাবিতে রোপনকৃত উফশী বোরো ধানের বেলায় শীষ বের হওয়া থেকে দানা পুষ্ট হওয়া পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি ধরে রাখতে হবে। রাতের তাপমাত্রা ১৮-২০০ সে. হলে শীষ বের হতে সময় লাগে বা বাধাগ্রস্থ হয় এবং ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৩৫০ সে. এর বেশি উচ্চ তাপমাত্রা যদি এক ঘন্টা সময় গাছের ফুলফোটা অবস্থায় বিরাজ করে তা হলেও ধান চিটা হতে পারে। প্রতিকার হিসেবে জমিতে ৫-১০ সেমি. পানি ধরে রাখতে হবে। সম্ভব হলে সেচের পানি বারবার পরিবর্তন করতে হবে। নাবিতে রোপনকৃত বোরো ধানে মাজরা পোকা, গান্ধি পোকা, বাদামি এবং সাদাপিঠ গাছ ফড়িং ও ইঁদুর ধানের উল্লে¬খযোগ্য ক্ষতি করে থাকে। আলোর ফাঁদের ব্যবহার, জমিতে ডালপালা পুঁতে দেওয়া, ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করা, নিয়মিতভাবে ধান গাছের গোড়ায় বাদামী এবং সাদাপিঠ গাছফড়িংয়ের আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সকল পোকার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। বাদামি গাছ ফড়িং নিয়ন্ত্রনের জন্য এসময় জমিতে হাঁস ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ এ সময় হাঁস জমির ধানের ছড়া ভেঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করতে হবে।  ইদুর নিধনে মাঠের সকল  কৃষক মিলে একযোগে ব্যবস্থা নিলে অধিক সুফল পাওয়া যাবে।
পাতা ঝলসানো, খোল পোড়া ও শীষের গিট ব্লাস্ট রোগ ধানের অনেক ক্ষতি করে। মেঘলা আবহাওয়া, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, তাপমাত্রা ২৫০ সে. এর নিচে বিরাজ করলে ব্যাপক ভাবে শীষের গিট ব্ল¬াস্ট আক্রমণ করতে পারে। ব্ল¬াস্ট রোগে ও খোল পোড়া রোগের আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত মাত্রায় ছত্রাকনাশক আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োগ করতে হবে। পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ বেশি হলে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
গম এবং ভূট্টা এ দু’টো দানাদার ফসল ইতোমধ্যে হয়তো কর্তনের পর বাড়ির আঙ্গিনায় চলে এসেছে। ভালভাবে শুকিয়ে খাবার গম এবং বীজের জন্য গম আলাদা ভাবে সংরক্ষন করতে হবে। পরবর্তী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণের দিকে বেশি করে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে বীজ শুকানো, পাত্রে সংরক্ষণ, পাত্র বায়ু রোধ করা, পাত্রটি মাটির হলে আলকাতরার প্রলেপ দেয়া, পাত্রটিকে মাটি থেকে আলাদা রাখা। এখন যদি বীজ ভালভাবে সংরক্ষণ করা যায় তবে আগামী মৌসুমে উৎকৃষ্ট ও মানসম্মত বীজের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বীজ বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভও করা যাবে। খরিফ মৌসুমে বোনা ভূট্টার বয়স ২০-২৫ দিন গলে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে হাল্কা সেচ দিতে হবে। প্রথমবার উপরি প্রয়োগের পর গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে।
বৈশাখ মাস তোষা পাট বোনার উপযুক্ত সময়। ও-৪ বা ফাল্গুনী তোষা ভালো জাত। বীজ বপনের আগে প্রতি কেজি বীজে ৪ গ্রাম ভিটাভেক্স বা ১৫০ গ্রাম রসুন পিষে বীজের সাথে মিশিয়ে শুকিয়ে পরে জমিতে বপন করা হলে বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পাট সারিতে বুনলে বীজের পরিমান কম লাগে। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করা হলে রাসায়নিক সারের পরিমাণ যেমন কম লাগে তেমনি পাটের ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
 
এই সময়ে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ বপন বা রোপণ করতে পারেন। ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, শসা, পটল, কাকরল, করলাসহ অন্যান্য সবজির জন্য মাদা তৈরি করতে হবে। ১ হাত দৈর্ঘ্য এবং ১ হাত চওড়া মাদা করে পরিমাণমত জৈবসার বা গোবর সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গাম এমওপি ভালাভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে ৫-৭ দিন রেখে দিতে হবে। তার পর পানিতে ভেজানো মানসম্মত বীজ মাদাপ্রতি ৩-৫ টি রোপণ করতে হবে। চারা যদি আগে তৈরি করা থাকে তবে ৩০-৩৫ দিন বয়সের সুস্থ সবল চারা রোপণ করতে পারেন। গ্রীষ্মকালীন সবজির অধিকাংশই লতানো সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাচা তৈরি করে নিতে হবে। বাঁশ, নাইলন দড়ি, তার দিয়ে মাচা তৈরি করা যায়। মনে রাখবেন লতানো সবজি গাছ যদি বেশি বৃদ্ধি পায়, তবে তার ফুল ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। সেজন্য বেশি বৃদ্ধিসম্পন্ন লতার বা গাছের কিছু ডালপাতা কেটে দিতে হবে, তাতে ফুল ফল বেশি ধরবে। 
 
কুমড়া জাতীয় যে সব সবজি আছে তাতে হাত-পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন ঘটাতে হবে। সেজন্য ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন পরাগায়ন করলে তাতে ফলন বেশ ভালো হবে। কুমড়া জাতীয় ফসলে মাছি পোকা বেশ ক্ষতি করে। এজন্য জমিতে খুঁটি পুঁতে খুঁটির মাথায় বিষটোপ ফাঁদ দিলে বেশ উপকার হয়। একশত গ্রাম পাকা থেঁতলানো মিষ্টি কুমড়া বা অন্য যে কোন সুগন্ধি পাকা ফলের সাথে আধা গ্রাম সেভিন বা ডিপটারেক্স-৮০ বা আধা মিলি ডিডিভিপি , বা ১০ ফোঁটা ডারসবান মিশাতে হবে। মাছি পোকা আকৃষ্ট হবে এবং পরে মারা যাবে। বিষটোপ ২ দিন পর পর বদলাতে হবে। শাক সবজি জমির আগাছা পরিস্কার, সার প্রয়োগ সেচ নিকাশ বিশেষ করে পানি যেন না জমতে পারে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করতে চাইলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রে বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, বারি টমেটো-৬, বারি টমেটো-১০, বারি টমেটো-১১ বা বিনা টমেটো- ১, বিনা টমেটো -২ এর চাষ করতে পারেন। একটু বেশি যতœ এবং পরিচর্যা করলে অভাবনীয় ফলাফল পাওয়া যায়। পুঁইশাক, কলমীশাক পরিকল্পিতভাবে চাষ করতে পারলে মৌসুমে ১০-১২ বার কাটা যায়। শাক জাতীয় ফসলের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ভালো ফলনের নিশ্চয়তা এনে দেয়।
 
ভালা ফলনের জন্য এ সময় বৃক্ষ জাতীয় গাছের বিশেষ করে ফল গাছের প্রয়োজনীয় যতœ নিতে হবে। মাতৃগাছের পরিচর্যা, আগাছা দমন, প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া হলে এর ফল কিছুদিন পরেই পাওয়া যাবে। আমের মাছি পোকা বা অন্যান্য পোকা-মাকড়ের জন্য সতর্ক থাকতে হবে। আসছে মৌসুমে যদি গাছ লাগাতে চান তবে এখন থেকেই জায়গা নির্বাচন, পকিল্পনা, জমির নকশা, এসব প্রাথমিক কাজ এখন থেকে শুরু করতে পারেন।
 
গরমকালে মুরগি পালনে যেসব সমস্যা দেখা দেয় তাহলো খাদ্য গ্রহণ, ব্রয়লারের দৈহিক ওজন বৃদ্ধির হার, লেয়ার ও ব্রিডারের ডিম উৎপাদনসহ ডিমের খোসার গুণগতমান কমে যায় এবং খামারে মুরগি মারা যাওয়ার হার বেড়ে যায়। সে কারণে ব্রুডার হাউসের শেডে বাচ্চা তোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও গ্লুকোজ খাওয়াতে হবে। আর লেয়ার হাউস ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শেডের চাল বা ছাদে তাপ বিকিরণ করতে পারে এমন সাদা, অ্যালুমিনিয়িাম রঙ দেয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে পাইপ বা ঝরনার মাধ্যমে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারের ক্ষেত্রে চালের ওপরে পাটের চট দিয়ে পানি ছিটাতে হবে। প্রচন্ড গরমে খাবারের পানির সঙ্গে বরফ মেশানো দরকার।
 
হাঁস মুরগির রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়া জরুরী। সেজন্য মুরগির রানীক্ষেত, ব্রংকাইটিস, ফাউলপক্ষ, ফাউল কলেরা, ম্যারেক্স এবং হাঁসের প্লেগ ও কলেরা রোগের টিকা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
 
গোখাদ্যের জন্য নেপিয়ার, বাজরা, প্যারা, ভুট্টা, ইপিল ইপিল এর চাষ করার ভালো সময় এখন। বাড়ির আশপাশে, পুকুর পাড়ে, রাস্তার ধারে, পতিত জায়গায় গোখাদ্যের চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। গ্রীষ্মের তাপদাহে গবাদি পশুর জন্য অতিরিক্ত খাবার, বিশ্রাম, ঘরে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, বেশি পানি খাওয়ানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে করতে হবে। এ সময় গবাদি পশুর তড়কা ও গলাফুলা রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য টিকা প্রদানসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
 
বৈশাখ মাস পুকুরে মাছ ছাড়ার উপযুক্ত সময়। ভালোভাবে পুকুর তৈরি করে অর্থাৎ সেচে কাদা সরিয়ে, চুন প্রয়োগ করে, আগাছা পরিস্কার, পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজ করে নিতে হবে। এসব প্রাসঙ্গিক কাজগুলো শেষ করে বিশ্বস্থ্য উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করে মাছ চাষের ব্যবস্থা করতে হবে।
 
প্রিয় পাঠক, বৈশাখ আসে আমাদের জন্য নতুন আবাহনের সৌরভ নিয়ে। সঙ্গে আঁচলে বেঁধে নিয়ে আসে কালবৈশাখীকে। কালবৈশাখীর থাবা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে কৃষিতে আগাম বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সুবিবেচিত লাগসই কৌশল আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব বাধা ডিঙিয়ে আমরা কৃষিকে নিয়ে যেতে পারব সমৃদ্ধির ভূবনে। 
 
প্রিয় কৃষি জীবি ভাই ও বোনেরা, কৃষি ভূবনের অনেক কিছু তথ্য এখনও বলা হয়নি, তাই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য ও তত্ত্ব আপনার নিকটতম উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিস, প্রাণি সম্পদ অফিস ও মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন।
 
 
 

চৈত্র মাসের কৃষি

চৈত্র বাংলাবছরের শেষ মাস। কিন্তু কৃষির শেষ বলে কিছু নেই। এ মাসে রবি ফসল ওগ্রীষ্মকালীন ফসলের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এক সঙ্গে করতে হয় বলে বেড়ে যায়কৃষকের ব্যস্ততা। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, কৃষিতে আপনাদের শুভ কামনাসহসংক্ষিপ্ত শিরোনামে এ মাসে কৃষিতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে হবেআসুন তা জেনে নেই।
বোরো ধান

  • যারা শীতেরকারণে দেরিতে চারা রোপণ করেছেন তাদের ধানের চারার বয়স ৫০-৫৫ দিন হলে ইউরিয়াসারের শেষ কিস্তি উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। ক্ষেতে গুটি ইউরিয়া দিয়ে থাকলেইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ করতে হবে না।
  • সার দেয়ার আগে জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং জমি থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে।
  • এলাকারজমিতে যদি সালফার ও দস্তা সারের অভাব থাকে এবং জমি তৈরির সময় এ সারগুলো নাদেয়া হয়ে থাকে তবে ফসলে পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণ পরীক্ষা করে শতাংশপ্রতি ২৫০গ্রাম সালফার ও ৪০ গ্রাম দস্তা সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
  • ধানের কাইচ থোড় আসা থেকে শুরু করে ধানের দুধ আসা পর্যন্ত ক্ষেতে ৩-৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে।
  • পোকা দমনেরজন্য নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনারক্ষেত্রে আলোর ফাঁদ পেতে, পোকা ধরার জাল ব্যবহার করে, ক্ষতিকর পোকার ডিমেরগাদা নষ্ট করে, উপকারী পোকা সংরক্ষণ করে, ক্ষেতে ডাল-পালা পুঁতে পাখি বসারব্যবস্থা করার মাধ্যমে ধানক্ষেত বালাইমুক্ত করতে পারেন।
  • এসব পন্থায়রোগ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করা না গেলে শেষ উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞেরপরামর্শ নিয়ে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • এ সময় ধান ক্ষেতে উফরা, ব্লাস্ট, পাতাপোড়া ও টুংরো রোগ দেখা দেয়।
  • জমিতে উফরা রোগ দেখা দিলে যে কোনো কৃমিনাশক যেমন ফুরাডান ৫ জি বা কিউরেটার ৫ জি প্রয়োগ করতে হবে।
  • ব্লাস্ট রোগদেখা দিলে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে এবংশতাংশপ্রতি ১.৬ গ্রাম ট্রপার বা জিল বা নেটিভ ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবারপ্রয়োগ করতে হবে।
  • জমিতে পাতাপোড়া রোগ হলে অতিরিক্ত ১.৫ কেজি/শতাংশ হারে পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবেএবং জমির পানি শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
  • টুংরো রোগ দমনের জন্য এর বাহক পোকা সবুজ পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।

গম

  • দেরিতে বপন করা গম পেকে গেলে কেটে মাড়াই, ঝাড়াই করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
  • শুকনো বীজ ছায়ায় ঠাণ্ডা করে প্লাস্টিকের ড্রাম, বিস্কুটের টিন, মাটির কলসি ইত্যাদিতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

ভুট্টা (রবি)

  • জমিতে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ গাছের মোচা খড়ের রঙ ধারণ করলে এবং পাতার রঙ কিছুটা হলদে হলে মোচা সংগ্রহ করতে হবে।
  • বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে শুকনো আবহাওয়ায় মোচা সংগ্রহ করতে হবে।
  • সংগ্রহ করা মোচা ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • ভুট্টারদানা মোচা থেকে ছাড়ানো অনেক কষ্টের কাজ। অনেকে এ কাজটি হাত দিয়ে করে থাকেন।খুব অল্প খরচে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র কিনে অনায়াসে মোচা থেকে ভুট্টা ছাড়াতেপারেন।

ভুট্টা (খরিফ)

  • গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা চাষ করতে চাইলে এখনই বীজ বপন করতে হবে।
  • শতাংশপ্রতি ১০০-১২০ গ্রাম বীজ লাগবে।
  • প্রতি শতাংশ জমিতে ইউরিয়া ৩৬৫ গ্রাম, টিএসপি ২২২ গ্রাম, এমওপি ১২০ গ্রাম, জিপসাম ১৬০ গ্রাম এবং দস্তা সার ১৬ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে ।

পাট

  • চৈত্র মাসেরশেষ পর্যন্ত পাটের বীজ বপন করা যায়। পাটের ভালো জাতগুলো হলো ও-৯৮৯৭, ওএম-১, সিসি-৪৫, বিজেসি-৭৩৭০, সিভিএল-১, এইচসি-৯৫, এইচ এস-২৪। স্থানীয় বীজডিলারদের সাথে যোগাযোগ করে জাতগুলো সংগ্রহ করতে পারেন।
  • পাট চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করে আড়াআড়িভাবে ৫-৬টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।
  • সারিতে বুনলে প্রতি শতাংশে ১৭ থেকে ২০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়। তবে ছিটিয়ে বুনলে ২৫-৩০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়।
  • পাটের জমিতে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেন্টিমিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৭-১০ সেন্টিমিটার রাখা ভালো।
  • ভালো ফলনেরজন্য শতাংশপ্রতি ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি সারশেষ চাষের সময় মাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। জমিতে সালফার ও জিংকেরঅভাব থাকলে জমিতে সার দেয়ার সময় ৪০০ গ্রাম জিপসার ও ২০ গ্রাম দস্তা সারদিতে হবে।
  • চারা গজানোর১৫ থেকে ২০ দিন পর শতাংশপ্রতি ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করেত হবে।এর ৩০ থেকে ৪০ দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো শতাংশপ্রতি ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া সারউপরিপ্রয়োগ করেত হবে।

অন্যান্য মাঠ ফসল

  • রবি ফসলের মধ্যে চিনা, কাউন, আলু, মিষ্টিআলু, চীনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন যদি এখনো মাঠে থাকে তবে দেরি না করে সাবধানে তুলে ফেলতে হবে।
  • কাটা/তোলা, বাছাই, মাড়াই, পরিষ্কার, শুকানো এবং সংরক্ষণসহ প্রতিটি ধাপে লাগসই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করলে খরচ কমে যাবে, লাভ বেশি হবে।
  • এ সময়ে বা সামান্য পরে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পচনশীল ফসল সেজন্য তাড়াতাড়ি কেটে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

শাকসবজি

  • গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষ করতে চাইলে এ মাসেই বীজ বপন বা চারা রোপণ শুরু করতে হবে।
  • সবজি চাষে পর্যাপ্ত জৈবসার ব্যবহার করতে হবে।
  • এসময়গ্রীষ্মকালীন টমেটো, ঢেঁড়স, বেগুন, করলা, ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, শসা, ওলকচু, পটোল, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, লালশাক, পুঁইশাক এসব চাষকরতে পারেন।

গাছপালা

  • এ সময় বৃষ্টির অভাবে মাটিতে রসের পরিমাণ কমে আসে। এ অবস্থায় গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • আম গাছেহপার পোকার আক্রমণ হলে অনুমোদিত কীটনাশক যেমন-সিমবুস/ফেনম/ ডেসিস ২.৫ ইসিপ্রভৃতি প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। আম গাছে মুকুল আসার ১০দিনের মধ্যে কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বেই একবার এবং এর একমাস পর আর একবারপ্রতি লিটার পানির সাথে ১.০ মিলি সিমবুস/ফেনম/ডেসিস ২.৫ ইসি মিশিয়ে গাছেরপাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে।
  • এ সময় আমেপাউডারি মিলডিউ ও অ্যান্থাকনোজ রোগ দেখা দিতে পারে। টিল্ট, রিডোমিল গোল্ডবা ডায়থেন এম ৪৫ অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • কলা বাগানের পার্শ্ব চারা, মরা পাতা কেটে দিতে হবে।
  • পেঁপের চারা রোপণ করতে পারেন এ মাসে।
  • নার্সারিতে চারা উৎপাদনের জন্য বনজ গাছের বীজ বপন করতে পারেন।
  • যাদের বাঁশ ঝাড় আছে তারা বাঁশ ঝাড়ের গোড়ায় মাটি ও জৈব সার প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রাণিসম্পদ

  • শীতকাল শেষহয়ে গরম পড়ার সময়টিতে পোলট্রি খামারি ভাইদের বেশ সর্তক থাকতে হবে। কারণশীতকালে মোরগ-মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। সে কারণেরানীক্ষেত, মাইকোপ্লাজমোসিস, ফাউল টাইফয়েড, পেটে পানি জমা এসব রোগ দেখাদিতে পারে। তাই আগ থেকেই টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই এর অভাব দেখা দিতে পারে। সেজন্য খাবারের সাথে ভিটামিন সরবরাহ করতে হবে।
  • তাপমাত্রার বৃদ্ধি ও কমে যাওয়ার কারণে বিরূপ আবহাওয়ায় মোরগ-মুরগীর খাবার গ্রহণেও অনীহা দেখা দেয়।
  • চৈত্র মাসেবেশ গরম পড়ে, তাই গবাদিপশুর এ সময় বিশ্রামের প্রয়োজন। আপনার গবাদিপশুকেছায়ায় রাখতে হবে এবং বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে, সেই সাথে নিয়মিত গোসলকরাতে হবে।
  • গবাদিপশুর গলাফুলা, তড়কা, বাদলা রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ

  • মাছের আঁতুড় পুকুর তৈরির কাজ এ মাসে শেষ করতে হবে।
  • পুকুরেরপানি শুকিয়ে গেলে নিচ থেকে পচা কাদা তুলে ফেলতে হবে এবং শতাংশপ্রতি ১ কেজিচুন ও ১০ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • পানি ভর্তি পুকুরে প্রতি শতাংশে ৬ ফুট পানির জন্য ১ কেজি চুন গুলে ঠাণ্ডা করে দিতে হবে।

সুপ্রিয় পাঠকপ্রতি বাংলা মাসেই কৃষিকথায় কৃষি কাজের জন্য অনুসরণীয় শিরোনামে সংক্ষেপেআলোচনা করা হয়ে থাকে। এগুলোর বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণের জন্য আপনারকাছের কৃষি বিশেষজ্ঞ, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞের সাথেপরামর্শ করে জেনে নিতে হবে। অথবা কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ নম্বরে কল করেবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

 

পৌষ মাসের কৃষি

সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, সবাইকে শীতের শুভেচ্ছা।  আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই পৌষ মাসে সমন্বিত কৃষির সীমানায় কোন কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
বোরো ধান
* অতিরিক্ত ঠাণ্ডার সময় রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং দিনে তুলে ফেলতে হবে। এতে চারার বৃদ্ধি ভালো হয়;
* আগাছা ও পাখির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বীজ গজানোর ৪-৫ দিন পর বেডের ওপর ২-৩ সেমি. পানি রাখতে হবে;
* চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে। এরপরও যদি চারা সবুজ না হয় তবে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম দিতে হবে;
* মূল জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে পানিসহ কাদা করতে হবে;
* জমিতে জৈবসার দিতে হবে এবং শেষ চাষের আগে দিতে হবে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার;
* চারার বয়স ৩০-৪০ দিন হলে মূল জমিতে চারা রোপণ শুরু করতে পারেন;
* লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার বজায় রেখে প্রতি গোছায় ২-৩টি সুস্থ চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়;
* ধানের চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর প্রথম কিস্তি, ৩০-৪০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং ৫০-৫৫ দিন পর শেষ কিস্তি হিসেবে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
গম
* গমের জমিতে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সেচ দিতে হবে;
* চারার বয়স ১৭-২১ দিন হলে গমক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করে হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে এবং সেচ দিতে হবে;
* সেচ দেয়ার পর জমিতে জো আসলে মাটির ওপর চটা ভেঙে দিতে হবে;
* গমের জমিতে যেখানে ঘন চারা রয়েছে সেখানে কিছু চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে।
ভুট্টা
* ভুট্টা ক্ষেতের গাছের গোড়ার মাটি তুলে দিতে হবে;
* গোড়ার মাটির সঙ্গে ইউরিয়া সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর সেচ প্রদান করতে হবে ;
* গাছের নিচের দিকের মরা পাতা ভেঙে দিতে হবে;
* ভুট্টার সঙ্গে সাথী বা মিশ্র ফসলের চাষ করে থাকলে সেগুলোর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে।
 
আলু
* চারা গাছের উচ্চতা ১০-১৫ সেন্টিমিটার হলে ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে;
* দুই সারির মাঝে সার দিয়ে কোদালের সাহায্যে মাটি কুপিয়ে সারির মাঝের মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। ১০-১২ দিন পরপর এভাবে গাছের গোড়ায় মাটি তুলে না দিলে গাছ হেলে পড়বে এবং ফলন কমে যাবে।
* আলু ফসলে নাবি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে। সে কারণে স্প্রেয়িং শিডিউল মেনে চলতে হবে। মড়ক রোগ দমনে দেরি না করে ২ গ্রাম ডায়থেন এম ৪৫ অথবা সিকিউর অথবা ইন্ডোফিল প্রতি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৭ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।
* মড়ক লাগা জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ রাখতে হবে।
* তাছাড়া আলু ফসলে মালচিং, সেচ প্রয়োগ, আগাছা দমনের কাজগুলোও করতে হবে।
* আলু গাছের বয়স ৯০ দিন হলে মাটির সমান করে গাছ কেটে দিতে হবে এবং ১০ দিন পর আলু তুলে ফেলতে হবে।
* আলু তোলার পর ভালো করে শুকিয়ে বাছাই করতে হবে এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
 তুলা
* তুলা সংগ্রহের কাজ শুরু করতে হবে। তুলা সাধারণত ৩ পর্যায়ে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। শুরুতে ৫০% বোল ফাটলে প্রথমবার, বাকি ফলের ৩০% পরিপক্ব হলে দ্বিতীয়বার এবং অবশিষ্ট ফসল পরিপক্ব হলে শেষ অংশের তুলা সংগ্রহ করতে হবে;
* রৌদ্রময় শুকনা দিনে বীজ তুলা উঠাতে হয়;
* ভালো তুলা আলাদাভাবে তুলে ৩-৪ বার রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ভালো তুলার সঙ্গে যেন খারাপ তুলা (পোকায় খাওয়া, রোগাক্রান্ত) কখনো না মেশে।
ডাল ও তেল ফসল
* মসুর, ছোলা, মটর, মাসকালাই, মুগ, তিসি পাকার সময় এখন;
* সরিষা, তিসি বেশি পাকলে রোদের তাপে ফেটে গিয়ে বীজ পড়ে যেতে পারে, তাই এগুলো ৮০ ভাগ পাকলেই সংগ্রহের ব্যবস্থা নিতে হবে;
* আর ডাল ফসলের ক্ষেত্রে গাছ গোড়াসহ না উঠিয়ে মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি রেখে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। এতে জমিতে উর্বরতা এবং নাইট্রোজেন সরবরাহ বাড়বে।
শাকসবজি
* ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, ওলকপি, শালগম, গাজর, শিম, লাউ, কুমড়া, মটরশুঁটি এসবের নিয়মিত যতœ নিতে হবে।
* টমেটো ফসলের মারাত্মক পোকা হলো ফলছিদ্রকারী পোকা। এ পোকার আক্রমণে ফলের বৃন্তে একটি ক্ষুদ্র আংশিক বদ্ধ কালচে ছিদ্র দেখা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ফলের ভেতরে পোকার বিষ্ঠা ও পচন দেখা যাবে। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতি বিঘা জমির জন্য ১৫টি ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। আধাভাঙ্গা নিম বীজের নির্যাস (৫০ গ্রাম এক লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে ১২ ঘণ্টা ভেজাতে হবে এবং পরে মিশ্রণটি ভালো করে ছাকতে হবে) ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আক্রমণ তীব্র হলে কুইনালফস গ্রুপের কীটনাশক (দেবিকইন ২৫ ইসি/কিনালাক্স ২৫ ইসি/করোলাক্স ২৫ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার পরিমাণ মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।
 * টমেটো সংগ্রহ করে বাসায় সংরক্ষণ করার জন্য আধা পাকা টমেটোসহ টমেটো গাছ তুলে ঘরের ঠাণ্ডা জায়গায় উপুড় করে ঝুলিয়ে টমেটোগুলোকে পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পরবর্তীতে ৪-৫ মাস পর্যন্ত অনায়াসে এ টমেটো ব্যবহার করা যাবে;
 * শীতকালে মাটিতে রস কমে যায় বলে সবজি ক্ষেতে চাহিদামাফিক নিয়মিত সেচ দিতে হবে;
* এ ছাড়া আগাছা পরিষ্কার, গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া, সারের উপরিপ্রয়োগ ও রোগবালাই প্রতিরোধ করা জরুরি।
গাছপালা
* গত বর্ষায় রোপণ করা ফল, ওষুধি বা কাঠ গাছের যতœ নিতে হবে।
* গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে এবং আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
* প্রয়োজনে গাছকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে।
* রোগাক্রান্ত গাছের আক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করে দিতে হবে।
* গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ
* শীতকালে পোল্ট্রি তে যে সব সমস্যা দেখা যায় তা হলো-অপুষ্টি, রাণীক্ষেত, মাইকোপাজমোসিস, ফাউল টাইফয়েড, পেটে পানি জমা এসব। তাই প্রয়োজনীয় যতœ নিতে হবে;
* মোরগ-মুরগীর অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সরবরাহ করতে হবে। তবে সেটি অবশ্যই প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে, নাহলে অনেক সময় মাত্রা না জেনে ওষুধ বা ভিটামিন প্রয়োগে ক্ষতির আশংকা থাকে। এছাড়া খরচও বেড়ে যায়;
* শীতের তীব্রতা বেশি হলে পোল্ট্রি শেডে অবশ্যই মোটা চটের পর্দা লাগাতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে;
* উপকূলীয় অঞ্চলে অনেকেই হাঁস পালন করে থাকেন। এ সময় হাঁসের যেসব রোগ হয় সেগুলো হলো- হাঁসের প্লেগ রোগ, কলেরা রোগ এবং বটুলিজম। প্লেগ রোগ প্রতিরোধে ১৮-২১ দিন বয়সে প্রথম মাত্রা এবং প্রথম টিকা দেয়ার পর ৩৬-৪৩ দিন বয়সে দ্বিতীয় মাত্রা এবং পরবর্তী ৪-৫ মাস পরপর একবার ডাক প্লেগ টিকা দিতে হবে;
* গাভীর জন্য শীতকালে মোটা চটের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। নাহলে গাভীগুলো তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যাবে;
* উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে সারা বছরের টিকা প্রদান এবং পরিচর্যা বিষয়ক পরিকল্পনা ও করণীয় কী সেসব বিষয়ে লিখিত পরামর্শ গ্রহণ করে তা মেনে চলতে হবে;
* গাভীকে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। গাভীর খাবার প্রদানে যেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে তাহলো- সঠিক সময়ে খাদ্য প্রদান, গোসল করানো, থাকার স্থান পরিষ্কার করা, খাদ্য সরবরাহের আগে খাদ্য পাত্র পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
* গাভীর খাবারের খরচ কমাতে নিজেদের জমিতে ঘাস চাষাবাদ করতে হবে;
* শীতকালে ছাগলের নিউমোনিয়া রোগটি খুব বেশি হয়। যদি ৫ দিনের বেশি কাশি ও দুর্গন্ধযুক্ত পায়খানা হয় তবে বুঝতে হবে প্যারাসাইটের জন্য নিউমোনিয়া হয়েছে। নিউমোনিয়াতে সেফটিয়াক্সোন ও টাইলোসিন ব্যবহারে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এছাড়াও পেনিসিলিন, অ্যামপিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন, স্টেপটোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন ব্যবহারেও ভালো সাড়া পাওয়া যায়।
মৎস্যসম্পদ
* শীতকালে মাছের বিশেষ যতœ নেয়া দরকার। কারণ এ সময়ে পুকুরে পানি কমে যায়। পানি দূষিত হয়। মাছের রোগবালাইও বেড়ে যায়;
* শীতের সময় কার্প ও শিং জাতীয় মাছে ড্রপসি বা উদর ফোলা রোগ বেশি হয়। আর এ রোগটি বড় মাছে বেশি হয়। এ রোগ প্রতিরোধে মাছের ক্ষত রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আর এ রোগের প্রতিকারে প্রতি কেজি খাদ্যের সাথে ১০০ মিলিগ্রাম টেরামাইসিন বা স্ট্রেপটোমাইসিন পরপর ৭ দিন খাওয়াতে হবে। সবচে ভালো হয় এ বিষয়ে আপনার কাছের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করা।
কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা পেতে শুক্রবার  ও অন্যান্য ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৬১২৩ নাম্বারে মিনিট প্রতি ২৫ পয়সা (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।


সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, শীতকাল আমাদের কৃষির জন্য একটি নিশ্চিত মৌসুম। যতবেশি যৌক্তিক বিনিয়োগ করতে পারবেন লাভও পাবেন তত বেশি। শুকনো মৌসুম বলে মাটিতে রস কম থাকে। তাই যদি প্রতি ফসলে চাহিদামাফিক সেচ প্রদান নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার জমির ফলন কতখানি বাড়ে। একমাত্র কৃষির মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করতে পারি। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আধুনিক কৃষির সব কটি কৌশল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা আমাদের কাক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারব। আপনাদের সবার জন্য শুভ কামনা।

 

অগ্রহায়ণ মাসের কৃষি

সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, সবাইকে নবান্নের শুভেচ্ছা। আবহান বাংলার ঋতুচক্রের এ মাসে ধুম পড়ে যায় আমন ধান কাটার এবং কর্তন পরবর্তী কাজ কর্মের।  আসুন আমরা জেনে নেই অগ্রহায়ণ মাসের কৃষিতে আমাদের করনীয় কাজগুলো।

আমন ধান

এ মাসে অনেকের আমন ধান পেকে যাবে তাই রোদেলা দিন দেখে ধান কাটতে হবে। আগামী মৌসুমের জন্য বীজ রাখতে চাইলে প্রথমেই সুস্থ্য সবল ভালো ফলন দেখে ফসল নির্বাচন করতে হবে। এরপর কেটে, মাড়াই-ঝাড়াই করার পর রোদে ভালমত শুকাতে হবে। শুকানো গরম ধান আবার ঝেড়ে পরিস্কার করতে হবে এবং ছায়ায় রেখে ঠান্ডা করতে হবে। পরিস্কার ঠান্ডা ধান বায়ু রোধী পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। বীজ রাখার পাত্র টিকে মাটি বা মেঝের উপর না রেখে পাটাতনের উপর রাখতে হবে। পোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে হলে ধানের সাথে নিম, নিসিন্দা, ল্যান্টানার পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে মিশিয়ে দিতে হবে।

বোরো ধান

আগ্রহায়ণ মাস বোরো ধানের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। রোদ পড়ে এমন উর্বর ও সেচ সুবিধাযুক্ত জমি বীজতলার জন্য নির্বাচন করতে হবে। চাষের আগে প্রতি বর্গমিটার জায়গার জন্য ২-৩ কেজি জৈব সার দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে। পানি দিয়ে জমি থকথকে কাদা করে এক মিটার চওড়া এবং জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে লম্বা করে ভেজা বীজতলা তৈরি করতে হবে। যেসব এলাকায় ঠান্ডার প্রকোপ বেশি সেখানে শুকনো বীজতলা তৈরি করতে পারেন। প্রতি দুই প্লটের মাঝে ২৫-৩০ সেমি. নালা রাখতে হবে।

 

যেসব এলাকায় সেচের পানির ঘাটতি থাকে সেখানে আগাম জাত হিসেবে ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৪৫ এবং ব্রি ধান৫৫, উর্বর জমি ও পানি ঘাটতি নাই এমন এলাকায় ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৫৯, ব্রি ধান৬০, ব্রি হাইব্রিড ধান১, ব্রি হাইব্রিড ধান২ ও ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ঠান্ডা প্রকোপ এলাকায় ব্রি ধান৩৬, হাওড় এলাকায় বিআর১৭, বিআর১৮, বিআর১৯, লবণাক্ত এলাকায় ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৫৫, ব্রি ধান৬১ চাষ করতে পারেন। বীজ বপর করার আগে ৬০-৭০ ঘন্টা জাগ দিয়ে রাখতে হবে। এসময় ধানের অঙ্কুর গজাবে। অঙ্কুরিত বীজ বীজতলায় ছিটিয়ে বপন করতে হবে। প্রতি বর্গমিটার বীজ তলার জন্য ৮০-১০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

গম

অগ্রহয়ণের শুরু থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ পর্যন্ত গম বোনার উপযুক্ত সময়। এরপর গম যত দেরিতে বপন করা হবে ফলনও সে হারে কমে যাবে। দো-আঁশ মাটিতে গম ভাল হয়। অধিক ফলনের জন্য গমের আধুনিত জাত যেমন- শতাব্দী, সুফী, বিজয়, প্রদীপ, আনন্দ, বরকত, কাঞ্চন, সৌরভ, গৌরব, বারি গম-২৫, বারি গম-২৬ এসব বপন করতে হবে। বীজ বপনের আগে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দ্বারা বীজ শোধন করে নিতে হবে। সেচযুক্ত চাষের জন্য বিঘাপ্রতি ১৬ কেজি এবং সেচবিহীন চাষের জন্য বিঘা প্রতি ১৩ কেজি বীজ বপন করতে হবে।

গমের ভাল ফলন পেতে হলে প্রতি শতক জমিতে ৩০-৪০ কেজি জৈব সার, ৬০০-৭০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০-৭০০ গ্রাম টিএসপি, ৩০০-৪০০ গ্রাম এমওপি, ৪০০-৫০০ গ্রাম জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার জমি তৈরীর শেষ চাষের সময় এবং ইউরিয়া তিন কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। গমে তিনবার সেচ দিলে ফলন বেশি পাওয়া যায়। বীজ বপনের ১৭-২১ দিনের মধ্যে প্রথম সেচ , ৪৫-৬০ দিনে দ্বিতীয় সেচ এবং ৭৫-৮০ দিনে ৩য় সেচ দিতে হবে।

ভুট্টা

ভুট্টা গত মাসে আবাদ না করে থাকলে এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমি তৈরি করে বীজ বপন করতে হবে। ভুট্টার উন্নত জাতগুলো হলো বারি ভুট্টা-৬, বারি ভুট্টা-৭, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৬, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৭, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৮, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৯, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১০, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১১ এসব। এক হেক্টর জমিতে বীজ বপনের জন্য ২৫-৩০ কেজি ভুট্টা বীজের প্রয়োজন হয়। তবে খই ভুট্টা বা হাইব্রিডের ক্ষেত্রে বীজের মাত্রা এর অর্ধেক হবে। ভাল ফলনের জন্য সারিতে বীজ বপর করতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৭৫ সেমি এবং বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখতে হবে।

মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সার প্রয়োগ করলে কম খরচে ভাল ফলন পাওয়া যায়। তবে সাধারণভাবে প্রতি শতাংশ জমিতে ইউরিয়া ১-১.৫ কেজি, টিএসপি ৭০০-৯০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০-৬০০ গ্রাম, জিপসাম ৬০০-৭০০ গ্রাম, দস্তা ৪০-৬০ গ্রাম, বরিক এসিড ২০-৩০ গ্রাম এবং ১৬-২০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।

সরিষা ও অন্যান্য তেল ফসল

তেল ফসলের মধ্যে সরিষা অন্যতম। তাছাড়া রয়েছে তিল, তিসি সূর্যমুখী। আমাদের দেশে তেল ফসল অনেকটা অবহেলিত। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে তেল ফসলের ফলন বাড়ানো সম্ভব। সরিষা গাছের বয়স ২০-২৫ দিন হলে শতাংশপ্রতি ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। উপরি সার প্রয়োগের পর হালকা একটি সেচ দিতে হবে। মাটিতে রস কমে গেলে ২০-২৫ দিন পর আবারো একটি সেচ দিতে হবে।

আলু

রোপণকৃত আলু ফসলের যত্ন নিতে হবে। মাটির কেইল বেঁধে দিতে হবে এবং কেইলে মাটি তুলে দিতে হবে। সারের উপরি প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় সেচ দিয়ে আগাছা পরিস্কার করতে হবে।

ডাল ফসল

ডাল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। মাঠে এখন মসুর, মুগ, মাষ, মটর, খেসারি, ছোলা, ফেলন, সয়াবিন প্রভৃতি ডাল ফসল আছে। সারের উপরিপ্রয়োগ, প্রয়োজনে সেচ, আগাছা পরিস্কার, বালাই ব্যবস্থাপনাসহ সবকটি পরিচর্যা সময়মত যথাযথভাবে করতে পারলে কাংখিত ফলন পাওয়া যাবে।

শাক-সবজি

মাঠে এখন অনেক সবজি বাড়ন্ত পর্যায়ে আছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, মুলা এ সব বড় হওয়ার সাথে সাথে চারার গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে। চারার বয়স ২-৩ সপ্তাহ হলে সারের উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সবজি ক্ষেতের আগাছা, রোগ ও পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করতে পারেন। এতে পোকা দমনের সাথে সাথে পরিবেশও ভাল থাকবে। প্রয়োজনে সেচ প্রদান করতে হবে। টমেটো গাছের অতিরিক্ত ডাল ভেঙে দিয়ে খুটির সাথে বেঁধে দিতে হবে।

অন্যান্য রবি ফসল

মাঠে এখন মিষ্টি আলু, চীনা, কাউন, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ অনেক অত্যাবশ্যকীয় ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি পর্যায়। এসময় ভালভাবে যত্ন পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আশাতীত ফলাফল বয়ে আনবে। এসব ফসলের কোনটি এখনো না লাগিয়ে থাকলে দেরি না করে চারা লাগাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে।

গাছপালা

এবারের বর্ষায় রোপণ করা ফল, ওষুধি বা বনজ গাছের যত্ন নিতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি আলগা করে দিতে হবে এবং আগাছা পরিস্কার করে দিতে হবে। প্রয়োজনে গাছকে খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। গাছের গোড়ায় জাবরা প্রয়োগ করলে তা পানি ধরে রাখবে। মাটিতে রসের পরিমান কমে গেলে গাছের গোড়ায় সেচ প্রদান করতে হবে। এ সময় গাছের বাড়বাড়তি কম হয় তাই পারতপক্ষে এখন গাছের ডালপালা কাটা ঠিক হবে না।

প্রাণিসম্পদ

হাঁস-মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর ভাল সময় এখন। তাছাড়া সামনে শীতকাল আসছে। শীতকালে পোল্ট্রিতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়ে যায় এবং রাণীক্ষেত, মাইকোপ্লাজমোসিস, ফাউল টাইফয়েড,  বসন্ত রোগ, কলেরা এসব রোগ মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে। এসব রোগ থেকে হাঁস-মুরগিকে বাঁচাতে হলে এ মাসেই টিকা দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ মাসে পশুখাদ্যের কোন অভাব থাকে না। বিশেষ করে কাঁচা ঘাসের। বুদ্ধিমানের কাজ হলো ভবিষ্যতের জন্য পর্যাপ্ত পশুখাদ্য বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা। আমন ধানের খরসহ অন্যান্য খাদ্য যেমন ভুট্টা, ডাল, ঘাস দিয়ে সাইলেজ তৈরি করে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে পারেন। এসময় গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ, তড়কা, গলাফুলা দেখা দিতে পারে। গবাদিপ্রাণিতে রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে প্রাণি চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ

মাছের খাবার হিসেবে উদ্ভিজ খাদ্য এবং প্রাণিজ খাদ্য তৈরিতে গোবড়/আবর্জনা পচা সার, রাসায়নিক সার বেশি উপযোগী। এসব পরিমাণমত প্রয়োগ করতে হবে। জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৎস্যবিদদের  সাথে পরামর্শ করে চুন বা তুঁতে প্রয়োগ করতে পারেন। শীতকাল আসছে। পুকুরে রৌদ পড়া নিশ্চিত করতে পুকুর পাড়ের গাছের ডালপালা কেটে পরিস্কার করতে হবে। পুকুরের ঢালে প্যারা, নেপিয়ার বা অন্যান্য ঘাসের চাষ করলে অতিরিক্ত ফসল পাওয়া যায়।এবং কার্প জাতীয় মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া মাছ সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য উপজেলা মৎস অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

কৃষি বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে উপজেলা কৃষি অফিস অথবা স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা পেতে শুক্রবার  ও অন্যান্য ছুটির ‍দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৬১২৩ নাম্বারে মিনিট প্রতি ২৫ পয়সা (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

 

 

কার্তিক মাসের কৃষি
কার্তিক মাস দিয়ে হেমন্তের শুরু। এ সময়ে সবুজ ও সোনালী ধানের ক্ষেত এবং নতুন ধানের ঘ্রাণের গন্ধে সুরভিত হয় চারপাশ। কার্তিক মাসে আমন ধান কাটার প্রস্তুতি চলে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে। আমন ধানের যেসব জমি থেকে আগামী মৌসুমের জন্য বীজ রাখতে চাইছেন সেসব জমির ফসল রোদেলা দিন দেখে সংগ্রহ করা ভালো। সুস্থ্য সবল ভালো ফলন দেখে ফসল নির্বাচন করতে হবে। এরপর কেটে মাড়াই-ঝাড়াই এবং রোদে শুকাতে হবে। শুকানো গরম ধান আবার ঝেড়ে পরিস্কার করে ছায়ায় রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। বীজ রাখার পাত্রটি একটু উপরে রাখা ভালো। পোকার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে ধানের সাথে নিম বা নিসিন্দার পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে মিশিয়ে দিলে পোকা ধরা বন্ধ হবে। ধানের খড় গবাদিপশুর খাদ্য, তাই খড় ভালো করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
ভূট্টা একটি বহুমূখী ফসল। মানুষের খাবারের পাশাপাশি পশু খাদ্য, পোল্ট্রি খাদ্য, মাছের খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ভ্যট্টা বেশ জনপ্রিয়। ভূট্টা চাষে ঝুঁকি কম, খরচ কম অথচ লাভ বেশি। পুষ্টিকর ফসল ভূট্টা চাষের এখনই উপযুক্ত সময়। বৃষ্টির পানি জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি ভূট্টা চাষের জন্য উপযোগী। জমির মাটি বেলে দো-আঁশ বা এঁটেল দো-আঁশ হলে ভালো হয়। ভূট্টা সারা বছরই চাষ করা যায়, তবে এ মৌসুমে অগ্রহায়ণ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বীজ বপন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আমাদের দেশে চাষের উপযোগী বেশ কয়েটি জাত আছে, যেমন- খই ভূট্টা, বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর, বারি ভূট্টা-৫, বারি ভূট্টা-৬, বারি হাইব্রিড ভূট্টা-১, প্যাসিফিক-১১, প্যাসিফিক-৬০, প্যাসিফিক-৭১০, এসব জাত উল্লেখ করার মত। বোনার আগে বীজ শোধন করে নেয়া ভালো। এক হেক্টর জমিতে বপনের জন্য ২৫-৩০ কেজি ভূট্টা প্রয়োজন। তবে খই ভূট্টা বা হাইব্রিড ভূট্টার বেলায় এর অর্ধেক অর্থাৎ ১২-১৫ কেজি হলেই চলে। ভূট্টা বীজ বপনের পর নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে।

শীতকালীন শাকসবজি চাষের উপযুক্ত সময় এখন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বীজতলায় উন্নতজাতের দেশি-বিদেশী ফুলকপি বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, বাটিশাক,টমেটো, বেগুন এসবের চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে। আর গত মাসে চারা উৎপাদন করে থাকলে এখন মূল জমিতে চারা রোপণ করতে পারেন। রোপণের পর আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, সেচ নিকাশসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করতে হবে। তাছাড়া লালশাক, মুলাশাক, গাজর, মটরশুটির বীজ এ সময় বপণ করতে পারেন।

গম বীজ বপন করতে হলে কার্তিকের দ্বিতীয় পক্ষ থেকে গম বীজ বপনের প্রস্তুতি নিতে হবে। দো-আঁশ মাটিতে গম চাষ করা হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। বেশি ফলন পাওয়ার জন্য আধুনিক জাত ব্যবহার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত গমের আধুনিক জাতগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি জাত হচ্ছে- প্রতিভা, অগ্রণী, সৌরভ, গৌরব, আকবর, আনন্দ, বরকত, কাঞ্চন। সিলেট অঞ্চলের জন্য বারি গম ২৫ এবং বারি গম ২৬ খুবই উপযোগী। বীজ বপনের আগে শোধন করে নেয়া দরকার। অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে বীজ শোধন করে নিতে হবে। সেচ দিয়ে বা সেচ ছাড়া দু’ভাবে গম চাষ করা যায়। সেচযুক্ত চাষের ক্ষেত্রে এক হেক্টর জমিতে প্রায় ১৩৫ কেজি অর্থাৎ বিঘা প্রতি প্রায় ১৬ কেজি এবং সেচ ছাড়া চাষের জন্য সাড়ে ১৩ কেজি বীজের প্রয়োজন। গম বীজ সারি করে বপন করা ভাল। আপনার গমের জমিতে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার ৩ কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। বীজ বপনের ১৭-২১ দিনের মধ্যে প্রথম সেচ দেয়া প্রয়োজন। এরপর প্রতি ৩০-৩৫ দিন পর ২ বার সেচ দিলে খুব ভালো ফলন পাওয়া যায়।

কার্তিক মাসের প্রথম থেকেই আলুর জমি তৈরি, সার প্রয়োগ এবং বীজ বপন শুরু করতে হবে। বেলে দো-আঁশ মাটি আলু চাষের জন্য বেশি উপযোগী। ফলন বেশি পাওয়ার জন্য ভালো বীজ আলু ব্যবহার করতে হবে। ভালো জাতগুলো হলো- হীরা, ক্লিওপেট্রা, প্যাট্রোনিজ, গ্রানোলা, বিনেলা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, কুফরিসুন্দুরী। প্রতি বিঘা জমিতে ২০০-২৬৬ কেজি আলু বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ আলু বড় হলে কেটে টুকরা করে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রতিটি টুকরায় যেন ৩-৪ টি চোখ বা কুঁড়ি থাকে। বীজ বপনের জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৫০-৬০ সে.মি. এবং সারিতে বীজের দূরত্ব হবে ২০-২৫ সে.মি.। ৫-৭ সে.মি. গভীরে বীজ বপন করতে হবে।

কার্তিক মাস সরিষা চাষেরও উপযুক্ত সময়। সরিষার প্রচলিত জাত গুলির মধ্যে টরি-৭, রাই-৫, বারি সরিষা-৬, বারি সরিষা-৭, বারি সরিষা-৮, বারি সরিষা ১১, বারি সরিষা ১৪, কল্যাণীয়া, সোনালী, সম্পদ, দৌলত এসব জাতগুলি উল্লেখযোগ্য। প্রতি বিঘা জমিতে ১-১.৫ কেজি সরিষা বীজের প্রয়োজন হয়। তবে জাত ভেদে কিছুটা তারতম্য হয়ে থাকে। জমিতে ডলোচুন ও বোরন সার ব্যবহারে সরিষার ফলন আরো ভালো হয়।

ডাল হলো গরিবের আমিষ। আমিষের ঘাটতি পূরণ করতে হলে ডাল ফসল চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মসুর, মুগ, মাসকলাই, মটর আড়হর, সয়াবিন, খেসারি, ছোলাসহ অন্যান্য ডাল জাতীয় ফসল এ সময় চাষ করতে পারেন। এজন্য উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সময়মতো বীজ বপন, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ পরিচর্যা সেচ, বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে হবে। এমাসে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, ধনিয়া চাষ করা যায়। সব ফসলের বেলায় আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে এ মৌসুমে পানির অভাব হয়। তাই বেশি ফলন পেতে হলে জমিতে পানি সেচ দিতে হবে।

এ সময় পুকুরের আগাছা পরিস্কার, সম্পূরক খাবার প্রয়োগ ও সার প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও এ সময় জরুরি। রোগ প্রতিরোধের জন্য একর প্রতি ৪৫-৬০ কেজি চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। মাছ চাষ সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য আপনি আপনার নিকটতম উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
বর্ষায় হয়তো আপনার গবাদিপশুর আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে। তাই এদের আবাসস্থল মেরামত করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। গবাদিপশুকে খড়ের সাথে তাজা ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো। সেজন্য ভূট্টা, মাসকলাই, খেসারি রাস্তার ধারে কিংবা পতিত জমিতে বপন করে গবাদিপশুকে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ও দুধ দুটোই বাড়ে। এ সময় রাতের বেলা গবাদিপশুকে খোলা আকাশের নীচে রাখবেন না। কারণ কুয়াশায় গবাদিপশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। গর্ভবতী গাভী এবং বাছুরের যতœ নিতে হবে। কার্তিক মাসে গবাদিপশকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার। তাছাড়া গবাদিপশুর তড়কা, গলাফোলা, মুরগির রাণীক্ষেত, হাঁস-মুরগির কলেরাসহ অন্যান্য রোগের প্রতিষেধক টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য আপনার নিকটতম একজন প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে পারেন।

নিয়মিত কৃষি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা কৃষিকথা পড়–ন। বাংলাদেশ বেতার, সিলেট থেকে প্রতিদিন প্রচারিত সন্ধ্যা ৬.০৫ মিনিট থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী শ্যামল সিলেট অনুষ্ঠান শুনুন। কৃষিকথার গ্রাহক ও কৃষি বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে উপজেলা কৃষি অফিস অথবা স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা পেতে শুক্রবার ও অন্যান্য ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৬১২৩ নাম্বারে মিনিট প্রতি ২৫ পয়সা (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

 

 

বিভিন্ন গুণাগুন সমৃদ্ধ পাঁচটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন

নানা গুণের আরো পাঁচটি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে খরা সহ্য করতে পারে এমন জাতের পাশাপাশি এখন প্রোটিন ও এমাইলোজ সমৃদ্ধ ধানের বীজও পাওয়া যাবে। আগ্রহী কৃষকরা চলতি মওসুম থেকেই এই বীজ নিয়ে আবাদ শুরু করতে পারবেন। ২০ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এ জাতগুলো অনুমোদন লাভ করেছে।
 
ব্রিধান ৬৫:
জাতটি বোনা আউশ মৌসুমের জন্য। দানার রং সোনালী ও আকৃতি চিকন লম্বা। এ জাতের জীবনকাল ৮৮ থেকে ১০৫ দিন। এ জাতটি চারা অবস্থায় খরা সহনশীল। জাতের জীবনকাল ব্রিধান ৪৩ এর চেয়ে তিন থেকে পাঁচ দিন আগাম। ফলন হেক্টরে সাড়ে তিন থেকে চার টন।

ব্রিধান ৬৬:
জাতটি রোপা আমন মৌসুমের খরা সহিষ্ণু জাত। এ জাতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চালে শতকরা ১০ দশমিক আট ভাগ প্রোটিন থাকে। এই জাতের জীবনকাল ব্রিধান ৫৬ এর চেয়ে তিন থেকে চার দিন বেশি। খরা না হলে ফলন হেক্টরে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টন। তবে খরা হলে ফলন চার থেকে সাড়ে চার টন।

ব্রিধান ৬৭:
জাতটি বোরো মৌসুমে আবাদ করা যাবে। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৫০ দিন। চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং রং সাদা।   প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, চারা অবস্থায়  ১২ থেকে ১৪ ডিএস/মি. (৩ সপ্তাহ) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ফলন হেক্টরে তিন দশমিক আট থেকে সাত দশমিক চার টন। জাতটি পুরো জীবনকালে আট ডিএস/মি. লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।

ব্রিধান ৬৮:
জাতটিও বোরো মৌসুমের জন্য। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৯ দিন। এ ধানের চাল মাঝারি মোটা এবং রং সাদা। চালে শতকরা সাত দশমিক সাত ভাগ প্রোটিন এবং ২৫ দশমিক সাত ভাগ এমাইলোজ রয়েছে। ব্রিধান ৬৮ এর জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে চার থেকে পাঁচ দিন নাবী। ফলন হেক্টরে সাত দশমিক তিন টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে নয় দশমিক দুই টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

ব্রিধান ৬৯:
জাতটিও বোরো মৌসুমের জন্য। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৬০ দিন। এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ধানের দানার রং সোনালী রঙের এবং মাঝারি মোটা। চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা এবং রং সাদা। এই জাতের জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ দিন বেশি। ফলন হেক্টরে সাত দশমিক ৩০ টন। এ জাতটি কম উপকরণ ব্যবহারে ভাল ফলন দিতে সক্ষম। জাতটিতে অন্য জাতের চেয়ে ২০ শতাংশ ইউরিয়া কম লাগে।
 
তথ্যসূত্র:দৈনিক ইত্তেফাক
http://www.ittefaq.com.bd/national/2014/11/21/6807.html

 

 

আশ্বিন মাসের কৃষি

কাশফুলের শুভ্রতা, দিগন্ত জোড়া সবুজ আর সুনীল আকাশে ভেসে বেড়ানো চিলতে সাদা মেঘ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্ষার শেষে আনন্দের বার্তা নিয়ে শরৎ এসেছে। সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বর্ষা মৌসুমের সবটুকু ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া আর চলতি মৌসুমের পুরো পাওনা আদায় করতে কার্যকরী প্রস্তুতি নেয়ার সময় এখন। এ প্রেক্ষিতে আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই আশ্বিন মাসের বৃহত্তর কৃষি ভুবনের  করণীয় বিষয়গুলো।
 

আমন ধান
আমন ধানের বাড়ন্ত পর্যায় এখন। ধান গাছের বয়স ৪০-৫০ দিন হলে ইউরিয়ার শেষ কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের আগে জমির আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। সেজন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। নিচু এলাকায় আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থানীয় উন্নত জাতের শাইল ধানের চারা রোপণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫-৭টি চারা দিয়ে ঘন করে রোপণ করতে হবে।


এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিতে পারে। এতে ফলন অনেক কমে যায়। সুতরাং খরা দেখা দিলে সম্পূরক সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নদী, পুকুর, খাল-বিল, ডোবা যেখানেই পানি পাওয়া যাবে সেখান থেকে পাম্প, নলকূপ, দোন, সেঁওতি দিয়ে সেচ দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে সম্পূরক সেচ আমনের ফলন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


শিষ কাটা লেদাপোকা ধানের জমি আক্রমণ করতে পারে। প্রতি বর্গমিটার আমন জমিতে ২-৫টি লেদা পোকার উপস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির পূর্বাভাস। তাই সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় মাজরা, পামরি, চুঙ্গি, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া খোলপড়া, পাতায় দাগপড়া রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে, জমিতে খুঁটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাছাড়া সঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।


কোনো কারণে আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর২২, বিআর২৩, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়। এক্ষেত্রে গুছিতে ৫-৭টি চারা রোপণ করতে হবে। সেসাথে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যায় এবং দেরির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।


আখ
আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন। সাধারণত বীজতলা পদ্ধতি এবং পলিব্যগ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা যায়। তবে পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা হলে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃত্যুহার কম হয়।  চারা তৈরি করে বাড়ির আঙিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।  চারার বয়স ১-২ মাস হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। কাটুই বা অন্য পোকা যেন চারার ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।


বিনা চাষে ফসল আবাদ
মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বিনা চাষে অনেক ফসল আবাদ করা যায়। এ সময় ভুট্টা, গম, আলু, সরিষা, মাসকালাই বা অন্যান্য ডাল ফসল বিনা চাষে লাভজনকভাবে অনায়াসে আবাদ করা যায়। সঠিক পরিমাণ বীজ, সামান্য পরিমাণ সার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে লাভ হবে অনেক। জমির জো বুঝে এবং আবহাওয়ার কথা খেয়াল রেখে বিনা চাষে ফসল করলে খরচ খুব কম হয় এবং দ্রুত একটি ফসল পাওয়া যায়।

 

শাকসবজি
জমির মাটি এখনো ভেজা এবং স্যাঁতসেঁতে। আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জয়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে শাক উৎপাদন করা যায়। শাকের মধ্যে মুলা, লালশাক, পালংশাক, চিনাশাক, সরিষাশাক অনায়াসে করা যায়। তাছাড়া সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যত্নে আবাদ করা যায়।


কলা
অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়। ভালো উৎস বা বিশ্বস্ত চাষি ভাইয়ের কাছ থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে। কলার চারা রোপণের জন্য ২-২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি. গভীর গর্ত করে রোপণ করতে হবে। গর্তপ্রতি ৫-৭ কেজি গোবর, ১২৫ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এওপি সার এবং ৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালোভাবে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপণ করতে হবে। কলাবাগানে সাথি ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোন রবি ফসল চাষ করা যায়। এতে একটি অতিরিক্ত ফসলের এবং সে সাথে অর্থও পাওয়া যায়।

 

গাছপালা
গাছের চারা রোপণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তবে রোপণ করা চারা কোনো কারণে মারা গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে। রোপণ করা চারার যত্ন নিতে হবে এখন। যেমন বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিতে হবে এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিতে হবে। মরা বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে । চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন। গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। গাছের জাত ও বয়সের কারণে সারের মাত্রাও বিভিন্ন হয়।

 

প্রাণিসম্পদ
হাঁস-মুরগির কলেরা, ককসিডিয়া, রানীক্ষেত রোগের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে টিকা প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। এ মাসে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাচ্চা ফুটানোর জন্য অতিরিক্ত ডিম দেয়া যাবে না। তাছাড়া ডিম ফুটানো মুরগির জন্য অতিরিক্ত বিশেষ খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।


আশ্বিন মাসে গবাদিপশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো দরকার। গবাদিপশুকে খোলা জায়গায় না রেখে রাতে ঘরের ভেতরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পানিতে জন্মানো পশুখাদ্য এককভাবে না খাইয়ে শুকিয়ে খরের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এ সময় ভুট্টা, মাসকলাই, খেসারি, বুনো ঘাস উৎপাদন করে গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারেন। গর্ভবতী গাভী, সদ্য ভূমিষ্ঠ বাছুর ও দুধালো গাভীর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। এ সময় গবাদিপ্রাণির মড়ক দেখা দিকে পারে। তাই গবাদিপশুকে তড়কা, গলাফুলা, ওলান ফুলা রোগের জন্য প্রতিষেধক, প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চত করতে হবে।


মৎস্যসম্পদ
বর্ষায় পুকুরে জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং পুকুরের পাড় ভালো করে বেঁধে দিতে হবে। পুকুরের মাছকে নিয়মিত পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার সরবরাহ করতে হবে। এ সময় পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সারাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে । এ সময় সরকারি ও বেসরকারি মাছের খামার থেকে জিওল মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন।


সুপ্রিয় কৃষিজীবী ভাইবোন, আশ্বিন মাসে সারা দেশজুড়ে ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। আমন ধান রক্ষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য এ অভিযান চলে। এককভাবে বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইঁদুর দমন করলে কোনো লাভ হবে না। ইঁদুর দমন কাজটি করতে হবে দেশের সব মানুষকে একসাথে মিলে এবং ইঁদুর দমনের সব পদ্ধতি ব্যবহার করে। ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চাষাবাদ, গর্তে ধোঁয়া দেয়া, ফাঁদ পাতা, উপকারী প্রাণী যেমন- পেঁচা, গুঁইসাপ, বিড়াল দ্বারা ইঁদুর দমন, বিষটোপ এবং গ্যাস বড়ি ব্যবহার  করা। আসুন সবাই একসাথে অতিচালাক আমাদের এ পরমশত্রুটিকে দমন করি। সবার জন্য নিশ্চিত সফল কৃষি উৎপাদন কামনা করে এ মাসের কৃষি এখানেই শেষ করলাম। আল্লাহ হাফেজ।

 

কৃষি বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে উপজেলা কৃষি অফিস অথবা স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা পেতে শুক্রবার  ও অন্যান্য ছুটির ‍দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৬১২৩ নাম্বারে মিনিট প্রতি ২৫ পয়সা (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

ভাদ্র মাসের কৃষি

সুপ্রিয়কৃষিজীবী ভাইবোন, আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। কৃষির এ ক্ষতি মোকাবিলায়আমাদের নিতে হবে বর্ষায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা। কৃষির ক্ষতিকে পুষিয়ে নেয়া এবংপ্রয়োজনীয় কাজগুলো যথাযথভাবে শেষ করার জন্য ভাদ্র মাসে কৃষিতে করণীয়বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে জেনে নেব-

 

আমন ধান
এ সময় আমন ধান ক্ষেতের অন্তর্বর্তীকালীন যত্ন নিতে হবে। ক্ষেতে আগাছাজন্মালে তা পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা পরিষ্কার করার পর ইউরিয়া সারউপরিপ্রয়োগ করতে হবে। আমন ধানের জন্য প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০ কেজি ইউরিয়াসার প্রয়োজন হয়। এ সার তিন ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা লাগানোর ১৫ থেকে ২০ দিনপর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০ থেকে ৪০ দিন পর এবং তৃতীয় ভাগ ৫০ থেকে ৬০ দিন পর প্রয়োগকরতে হবে। নিচু জমি থেকে পানি নামতে দেরি হয়। পানি নেমে গেলে এসব জমিতেএখনও আমন ধান রোপণ করা যাবে। দেরিতে রোপণের জন্য বিআর ২২, বিআর ২৩, বিনাশাইল, নাইজারশাইল বা স্থানীয় উন্নত ধান বেশ উপযোগী। এ ক্ষেত্রে প্রতিহেক্টর জমিতে ১৭৫ কেজি ইউরিয়া, ১৩০ কেজি টিএসপি এবং ৬০ কেজি এমওপি সারপ্রয়োজন। ইউরিয়া ছাড়া অন্য দুটি সার জমি তৈরি করার সময় প্রয়োগ করতে হবে।দেরিতে চারা রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি গুছিতে ৫ থেকে ৭টি চারা দিয়ে ঘন করেরোপণ করতে হবে।

 

আমন মৌসুমেমাজরা, পামরি, চুঙ্গি, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া খোলপড়া, পাতায়দাগ পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে  নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে, জমিতেখুঁটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাছাড়াসঠিক বালাইনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক নিয়মে, সঠিক সময় শেষ কৌশল হিসাবেব্যবহার করতে হবে।

 

পাট
বন্যায় তোষা পাটের বেশ ক্ষতি হয়। এতে ফলন যেমন কমে তেমনি বীজ উৎপাদনেরওসমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে পরবর্তী মৌসুমে বীজ সঙ্কট দেখা দেয়। এ সমস্যাসমাধানে বিশেষ যত্নে ভাদ্রের শেষ পর্যন্ত দেশি পাট এবং আশ্বিনের মাঝামাঝিপর্যন্ত তোষা পাটের বীজ বোনা যায়। বন্যার পানি উঠে না এমন সুনিষ্কাশিত উঁচুজমিতে জো বুঝে প্রতি শতাংশে লাইনে বুনলে ১০ গ্রাম আর ছিটিয়ে বুনলে ১৬গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। জমি তৈরির সময় শেষ চাষে শতক প্রতি ৩০০ গ্রামইউরিয়া, ৬৫০ গ্রাম টিএসপি, ৮০ গ্রাম এমওপি সার দিতে হবে। পরে শতাংশপ্রতিইউরিয়া ৩০০ গ্রাম করে দুই কিস্তিতে বীজ গজানোর ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর জমিতেদিতে হবে।

 

আখ
এ সময় আখ ফসলে লালপচা রোগ দেখা দিতে পারে। এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগহয়। লালপচা রোগের আক্রমণ হলে আখের কাণ্ড পচে যায় এবং হলদে হয়ে শুকিয়ে যেতেথাকে। এজন্য আক্রান্ত আখ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং জমিতে যাতে পানি নাজমে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া রোগমুক্ত বীজ বা শোধন করা বীজ ব্যবহারকরলে অথবা রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে লালপচা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

তুলা
ভাদ্র মাসের প্রথম দিকেই তুলার বীজ বপন কাজ শেষ করতে হবে। বৃষ্টির ফাঁকেজমির জো অবস্থা বুঝে ৩ থেকে ৪টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করে বিঘা প্রতিপ্রায় ২ কেজি তুলা বীজ বপন করতে হয়। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৬০ থেকে ৯০সেন্টিমিটার এবং বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ৩০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখতেহয়। তুলার বীজ বপনের সময় খুব সীমিত। তাই হাতে সময় না থাকলে জমি চাষ না দিয়েনিড়ানি বা আগাছানাশক প্রয়োগ করে জমি আগাছামুক্ত করে ডিবলিং পদ্ধতিতে বীজবপন করা যায়। বীজ গজানোর পর কোদাল দিয়ে সারির মাঝখানের মাটি আলগা করে দিতেহবে। সমতল এলাকার জন্য সিবি-৯, সিবি-১২, হীরা হাইব্রিড রূপালী-১, ডিএম-২, ডিএম-৩ অথবা শুভ্র জাতের চাষ করতে পারেন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেপাহাড়ি তুলা-১ এবং পাহাড়ি তুলা-২ নামে উচ্চফলনশীল জাতের তুলা চাষ করতেপারেন।

 

শাকসবজি
ভাদ্র মাসে লাউ ও শিমের বীজ বপন করা যায়। এজন্য ৪ থেকে ৫ মিটার দূরে দূরে৭৫ সেমি. চওড়া এবং ৬০ সেমি. গভীর করে মাদা বা গর্ত তৈরি করতে হবে। এরপরপ্রতি মাদায় ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭৫ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগকরতে হবে। মাদা তৈরি হলে প্রতি মাদায় ৪ থেকে ৫টি বীজ বুনে দিতে হবে এবংচারা গজানোর ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর দুই-তিন কিস্তিতে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৭৫গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।


এ সময় আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনের কাজশুরু করা যায়। সবজি চারা উৎপাদনের জন্য উঁচু এবং আলো বাতাস লাগে এমন জায়গানির্বাচন করতে হবে। জমি ভালোভাবে কুপিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটি ঝুর ঝুরে করতেহবে। চাষের সময় ১ বর্গমিটার জমির জন্য ১০ কেজি জৈবসার এবং ৩০০ গ্রাম টিএসপিমাটির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। জমি তৈরি হয়ে গেলে এক মিটার চওড়াএবং জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে লম্বা করে বেড তৈরি করতে হবে। দুই বেডের মাঝখানে৬০ সেমি. ফাঁকা রাখতে হবে। এতে যে নালা তৈরি হবে তার গভীরতা হবে ১৫ সেমি.।বীজতলা হয়ে গেলে সেখানে উন্নত জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো এসবেরবীজ বুনতে পারেন।


গাছপালা
ভাদ্র মাসেও ফলদ বৃক্ষ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা যায়। বন্যায় বাবৃষ্টিতে মৌসুমের রোপিত চারা নষ্ট হয়ে থাকলে সেখানে নতুন চারা লাগিয়েশূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে হবে। এছাড়া এ বছর রোপণ করা চারার গোড়ায় মাটিদেয়া, চারার অতিরিক্ত এবং রোগাক্রান্ত ডাল ছেঁটে দেয়া, বেড়া ও খুঁটি দেয়া, মরা চারা তুলে নতুন চারা রোপণসহ অন্যান্য পরিচর্যা করতে হবে। ভাদ্র মাসেআম, কাঁঠাল, লিচু গাছ ছেঁটে দিতে হয়। ফলের বোঁটা, গাছের ছোট ডালপালা, রোগাক্রান্ত অংশ ছেঁটে দিলে পরের বছর বেশি করে ফল ধরে এবং ফল গাছে রোগও কমহয়।


প্রাণিসম্পদ
পোলট্রি শেডে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে। আর টিন শেডে চটের ছালারেখে মাঝে মাঝে পানি দ্বারা ভিজিয়ে দিতে হবে। ভেজা আবহাওয়া ও মাঝে মাঝে গরমপোলট্রি ক্ষেত্রে গামবোরো রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি করে। এ রোগে মুরগির পালকনিচের দিকে ঝুলে পড়ে। গা গরম ও কাঁপুনি দেখা দেয়। সাদা পানির মতো পাতলাপায়খানা দেখা যায়। মুরগি সহজে নড়ে না। এমনিতে ভাইরাসজনিত এ রোগের কোনোচিকিৎসা নেই। তবে আছে সতর্কতা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। প্রতিরোধব্যবস্থাগুলো হলো- খামার জীবাণুমুক্তকরণ, ভ্যাকসিন প্রয়োগ, বায়োসিকিউরিটিএসব। বায়োসিকিউরিটির জন্য খামারকর্মীদের জীবাণুমুক্ত জুতা ও এপ্রোন পরেখামারে ঢোকা, কম বয়সী বাচ্চার বেশি যত্ন নেয়া, শেডে জীবাণুনাশক পনি স্প্রেকরা, মুরগির বিষ্ঠা ও মৃত মুরগি খামার থেকে দূরে মাটিতে পুঁতে ফেলা, পোলট্রি শেডের ঘরের মেঝে কস্টিক সোডার পানির দ্রবণ দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কারকরা।


পতিত জমিতে নেপিয়ার, বাজরা, খেসারি, গটর, ইপিল ইপিল, গিনি ঘাস লাগানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো জায়গায় যদি পানি জমেথাকে সে এলাকায় জন্মানো ঘাস গবাদিপশুকে খাওয়ানো যাবে না। কারণ এত গাভী বাগরুর রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। গরু ও ছাগলকে নিয়মিত গোসল করারব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে অসুখ-বিসুখ কম হয়। গোয়ালঘরের গোবর চনা নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। আর গরুর গায়ের আটালি, মাছি, জোঁক, পোকামাকড় বেছে দিতে হবে। তড়কা, বাদলা, গলাফুলা রোগ যাতে না হয়সেজন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগরাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
 

মৎস্যসম্পদ
পুকুরে নতুন মাছ ছাড়ার সময় এখন। মাছ ছাড়ার আগে পুকুরের জলজ আগাছা পরিষ্কারকরতে হবে। পুকুর জীবাণুমুক্ত করে সঠিক সংখ্যক সুস্থ সবল পোনা মজুদ করতেহবে। যেসব পুকুরে মাছ আছে সেসব পুকুরে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকরা দরকার। রোগের আক্রমণ থেকে মাছ রক্ষা করতে স্থানীয় উপজেলা মৎস্য অফিসেরসহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মৎস্য অফিসের সহায়তায়প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিতপ্রযুক্তি পুকুরে পাঙ্গাশ মাছের চাষ, ধানক্ষেতে মাছ চাষ, প্লাবিত এলাকায়ঘেরের মাধ্যমে রাজপুঁটি ও চিংড়ির চাষ, পুকুরে রুই জাতীয় ও চিংড়ির মিশ্র চাষএবং প্লাবিত এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ করা যেতে পারে।


বন্যার কারণে ভেসে যাওয়া পুকুরের মাছ পুকুরেরাখতে- ভেসে যাওয়া পুকুরগুলোর ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরত্বে একটি চটের ব্যাগে ৫থেকে ৭ কেজি ধানের কুঁড়া বা গমের ভুসি ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটারপানির নিচেএকটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। তবে ব্যাগটিতে অবশ্যই ছোট ছোট ছিদ্র করেদিতে হবে। এতে খাবার পেয়ে মাছ পুকুরেই অবস্থান করবে।
 

কৃষি বিষয়েআরো বিস্তারিত জানতে উপজেলা কৃষি অফিস অথবা স্থানীয় উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা পেতে শুক্রবার  ওঅন্যান্য ছুটির ‍দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ১৬১২৩নাম্বারে মিনিট প্রতি ২৫ পয়সা (ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ব্যতীত) কল করেবিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে পারেন।

সাংগঠনিক কাঠামো

কর্মকর্তাবৃন্দ

কর্মচারীবৃন্দ

প্রকল্পসমূহ

 

১। দশটি অঞ্চলে কৃষি তথ্য সার্ভিস কার্যক্রম নিবিড়করণ (আইএআইএস) প্রকল্প।

২। কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন ও গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প।

 

উল্লেখ্য যে, গত ৩০ জুন, ২০১৫ প্রকল্প দুইটির কার্যক্রম সমাপ্তি হয়েছে।

যোগাযোগ

 

 

 

 
কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, সিলেট।
 
অফিসের বর্তমান ঠিকানা
 
০৪ পারকুল হাউস (নিচ তলা), মজুমদারী
 
এয়ারপোর্ট রোড, আম্বরখানা,সিলেট।

 

ফোন: ০৮২১-৭১৭৪৪৭

 

কী সেবা কীভাবে পাবেন

 

কৃষি তথ্য সার্ভিসের  কার্যাবলী

১.১.কৃষি তথ্য সার্ভিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি স্বতন্ত্র দপ্তর। এর মূল কাজ হলো কৃষিবিষয়ক তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা।

১.২.কৃষির আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় মানসম্মত তথ্য সেবা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়াই কৃষি তথ্য সার্ভিসের কাজ।

১.৩.কৃষি তথ্য সার্ভিস দু’টি মূল ধারায় কাজ করে থাকে যথা: ক) প্রিণ্ট মিডিয়া ও খ) ইলেকট্রনিক মিডিয়া।

 

ক.  প্রিণ্ট মিডিয়া

 

1.  বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকের করণীয় বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা;

2.  কৃষিকথা, সম্প্রসারণ বার্তা, ফোল্ডার, লিফলেট, বুকলেট, পোস্টার,বিজ্ঞাপন, কৃষি ডাইরি প্রকাশনা;

3.  অঞ্চল ও জাতীয় কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

4.  ডিজিটাল কৃষি সম্প্রসারণে অহ্চল পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা র্মলক কার্যত্রমে অংশগ্রহন।

 

 

খ.   ইলেকট্রনিক মিডিয়া

1.  জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় দ্রুত টেলপ, বিজ্ঞাপন, টক শো, ফিলার নির্মাণ ও মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা;

2.  বেতার কৃষি কার্যক্রম সম্প্রচাওে সার্বিক সহায়তা প্রদান;

3.  বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ এবং বাংলার কৃষি অনুষ্ঠান ধারণ ও সার্বিক কারিগরি সহায়তা প্রদান;

4.  কৃষি সংবাদে তথ্য প্রেরণ;

5.  কৃষি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী;

6.  ভিডিও প্রদর্শনী ইত্যাদি;

7.  বেসরকারি চ্যানেলে তথ্যবহুল কৃষি কার্যক্রম প্রচারে সার্বিক সহায়তা প্রদান।

 

১.৪.কৃষি তথ্য সার্ভিস  বেতার কাথকা  লিখন ও উপস্থাপন কৌশলসহ কৃষিতে উন্নয়ন যোগাযোগের ওপর কৃষি সম্প্রসারণ/ মৎস্য/ প্রাণীসম্পদ/ বনবিভাগ/ বিআরডিবি/ কৃষি গবেষণা/ ধান গবেষণা/ পাট গবেষণা/ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট/ বিএডিসি/স্থানীয় সংবাদকর্মী ও এনজিওকর্মীকে প্রায় স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

 

১.৫.সর্বোপরি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ ঘোষিত অন্যান্য  সকল সেবাসমূহ প্রদান করা।

 

কি সেবা কি ভাবে পাবেনঃ

 

·        কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারে সহায়তা করা ।

 

·        আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান চাষাবাদ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ।

 

·        আঞ্চলিক কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন ফিচার, কৃষকের সফলতা প্রচার, সমসাময়িক কৃষি সমস্যাবলী কৃষি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করা ।

 

·        সরকারের কৃষি বিষয়ক  নীতিনির্ধারন সিদ্ধান্তবলী প্রচারে সহায়তা করা ।

 

·        কৃষি বিষয়ক একমাত্র সরকারি মাসিক পত্রিকা কৃষিকথা কৃষক পর্যায়ে গ্রাহক সংগ্রহ করা ।

 

·        বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ সম্বলিত পোষ্টার ,ফোল্ডার ,লিফলেট,কৃষক কৃষি কর্মী ও কৃষি কর্মকর্তা পর্যায়ে পৌছানোর ব্যবস্থা করা ।

 

·        সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলের চার জেলায় ১৯ টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ  কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে  ‍কৃষক পর্যায়ে দ্বোর গোড়ায় কৃষি তথ্য সেবা পৌছানোর ব্যবস্থা করা ।

 

·        সিনেমা ভ্যানের মাধ্যমে  কৃষক পর্যায়ে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্বলিত  চলচ্চিত্র প্রদর্শণ  করা ।

প্রদেয় সেবাসমুহের তালিকা

সিটিজেন চার্টার

কৃষি তথ্য সার্ভিসের সিটিজেন চার্টার

 

কৃষি তথ্য সার্ভিস প্রিণ্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের জীবন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ করে তোলা তথা জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং দারিদ্র বিমোচনে অব্যাহত ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে যেসমস্ত সেবা পাওয়া যায় তার বিবরণ নিম্নরূপ:

 

ক্র:

নং

দায়িত্বাবলী 

সেবাগ্রহণকারী

প্রার্থিত সুবিধা পাওয়ার সর্বোচ্চ সময়সীমা

 

কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রিণ্ট মিডিয়া

 

ক. কৃষিকথা, একমাত্র সরকারি কৃষিভিত্তিক মাসিক ম্যাগাজিন।

সকল শ্রেণীপেশার মানুষ যেমন- আপামর কৃষক, শিক্ষক, ছাত্র/ছাত্রী, উদ্যোক্তা, খামারি, গবেষক, সম্প্রসারণবিদ, এনজিও কর্মী, আগ্রহী জনসাধারণ

৩০ দিন

(প্রতি সংখ্যা)

 

খ. সম্প্রসারণ বার্তা: মাসিক কৃষিভিত্তিক সংবাদ বুলেটিন।

কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন সংস্থা প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ, সম্প্রসারণকর্মী ও কৃষিজীবী

৩০ দিন

(প্রতি সংখ্যা)

 

গ. কৃষি ডাইরি: (সরকারী নির্ধরিত মূল্যে বিক্রয় করা হয়)

কৃষির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি মস্ত্রণালয়/ কৃষি সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান /ব্যক্তির টেলিফোন নম্বর এবং কৃষি শ্লোগান, ছন্দ,খনার বচন,আল কুরআন ও আল-হাদীসের বাণী ,খনার বচন ও তথ্যভিত্তিক ৩৬৫ দিনের ডাইরিসরকারের ঊর্ধ্বত কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কৃষক, গবেষক

প্রতি বছর (ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত)

০১.

     অনিয়মিত

ক. পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট, ফোল্ডার, স্টিকার এসব সমসাময়িক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কীত তথ্য, চলমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ভিত্তিক প্রকাশনা  বিতরন

সকল শ্রেণী পেশার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর

জন্য 

সারাবছর মৌসুমভিত্তিক বা যখন প্রয়োজন হয়।

 

খ. বিশেষ ক্রোড়পত্র: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস বা ইস্যু ভিত্তিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশনা বিতরন     

সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে

 

গ. বিজ্ঞপ্তি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বিশেষ তথ্য প্রযুক্তি প্রচারণা সম্পর্কে জ্ঞাত করানো।

( বতার ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকা)

 

কৃষিজীবীসহ আপামর জনগণ   

কৃষিভিত্তিক যেকোন ইস্যুতে

০২.

 

 

 

 

 

 

    কৃষি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিক মিডিয়া

ক. রেডিও: আঞ্চলিক কেন্দ্র রাজশাহীতে  দু’টো অনুষ্ঠান প্রভাতী ও সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান, সময়োপযোগী তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রচারে সার্বিক সহযোগীতা, প্রতিদিন ৫০ মিনিট।        

 রেডিও’র শ্রোতামন্ডলী

প্রতিদিন আঞ্চলিক প্রোগ্রামে সম্প্রচার

 

** ক্ষেত খামার সমাচার- সকাল ০৬.২৫ হতে ০৬.৩০ মিনিট (গ্রীস্মকালে) এবং ০৬.৫৫ হতে ০৭.০০ (শীতকালে) প্রতিদিন

 

** সবুজ বাংলা- বিকাল ০৬.০৫ হতে ০৬.৫০ মিনিট

03.

    মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন ও প্রমোশন:

কৃষি তথ্য প্রযুক্তি ভিক্তিক

(বিনোদনের মাধ্যমে কৃষি তথ্য প্রযুক্তিভিক্তিক ডকুড্রামা, গান, নাটক তৈরি ও সম্প্রচার যা গ্রামগঞ্জে, হাটবাজারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যার পর প্রচারিত হয়)   

গ্রাম ও শহরের আগ্রহী দর্শক, কৃষক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সকল শ্রেনীর কৃষিজীবী

মেলা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসব পালন এবং যেকোন সংস্থার চাহিদামাফিক

০৪.

    প্রশিক্ষণ: কৃষিতে উন্নয়ন যোগাযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর কৌশল, ই-কৃষি, বেতার কথিকা লিখন ও উপস্থাপন কৌশল, কৃষি তথ্য সার্ভিসের অত্যাধুনিক নিজস্ব কম্পিউটার ল্যাবে এআইসিসি’র সকল সদস্যদের কম্পিউটার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান।        

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। যারা মিডিয়াভিত্তিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বা আগ্রহী

সিডিউল অনুযায়ী

০৬.

    সরকার কর্তৃক নির্ধারিত/ ঘোষিত অন্যান্য সেবাসমূহ প্রদান করা     

আপামর দেশবাসী

সারাবছর (প্রয়োজনমাফিক)

তথ্য অধিকার

বিজ্ঞপ্তি

ডাউনলোড

আইন ও সার্কুলার